আর্ট অব লিভিংকে স্বস্তি, ৫ কোটি টাকার NGT জরিমানা বাতিল সুপ্রিম কোর্টে
আর্ট অব লিভিংকে বড় স্বস্তি সুপ্রিম কোর্টের। ২০১৬ সালের বিশ্ব সংস্কৃতি উৎসব ঘিরে NGT-র ৫ কোটি টাকার জরিমানা বাতিল, DDA-কে ৪ সপ্তাহে টাকা ফেরতের নির্দেশ।
আর্ট অব লিভিংকে বড় স্বস্তি সুপ্রিম কোর্টের, ৫ কোটি টাকার জরিমানা বাতিল
সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : ২০১৬ সালের বিশ্ব সংস্কৃতি উৎসবকে কেন্দ্র করে যমুনার বন্যাভূমি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল বা NGT-র দেওয়া ৫ কোটি টাকার জরিমানার নির্দেশ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই রায়ে বড়সড় স্বস্তি পেল শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের নেতৃত্বাধীন আর্ট অব লিভিং।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ২০১৬ সালের ওই অনুষ্ঠানের কারণে যমুনার বন্যাভূমির পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে—এমন কোনও সরাসরি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকা যথেষ্ট বেহাল ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
২০১৬ সালের বিশ্ব সংস্কৃতি উৎসব ঘিরে বিতর্ক

২০১৬ সালের মার্চ মাসে দিল্লিতে যমুনা নদীর তীরে বড় আকারে বিশ্ব সংস্কৃতি উৎসব আয়োজন করেছিল আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন। বহু মানুষ ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর যমুনার বন্যাভূমি এবং নদী সংলগ্ন পরিবেশের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবেশবিদদের একাংশের অভিযোগ ছিল, অনুষ্ঠানের জন্য বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মাণকাজ, মঞ্চ তৈরি এবং বিপুল মানুষের সমাগমের কারণে যমুনার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি পৌঁছয় জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল বা NGT-তে।
২০১৭ সালে ৫ কোটি টাকা জরিমানা
পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে NGT আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেয়। যমুনার বন্যাভূমির পরিবেশগত ক্ষতির জন্য এই অর্থ দিতে বলা হয়েছিল।
তখন থেকেই এই নির্দেশ নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়। আর্ট অব লিভিং-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানের সঙ্গে যমুনার পরিবেশগত ক্ষতির সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়।
সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি
বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন. কোতিশ্বর সিং-এর বেঞ্চ মামলাটি শুনে NGT-র ওই নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনুষ্ঠানের কারণে যমুনার বন্যাভূমির পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে—এমন সরাসরি প্রমাণ সামনে আসেনি। আদালত আরও জানায়, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকা বেহাল ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
ফলে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতির যোগসূত্র ধরে আর্ট অব লিভিং-এর উপর ৫ কোটি টাকার জরিমানা চাপিয়ে দেওয়ার ভিত্তি যথেষ্ট নয় বলেই আদালত মনে করেছে।
চার সপ্তাহের মধ্যে টাকা ফেরতের নির্দেশ
NGT-র জরিমানার নির্দেশ খারিজ করার পাশাপাশি দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা DDA-কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আর্ট অব লিভিং-এর কাছ থেকে নেওয়া ৫ কোটি টাকা চার সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।
অর্থাৎ, এতদিন যে অর্থ পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আটকে ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ফেরত দেওয়ার পথ পরিষ্কার হল।
যমুনা পুনরুদ্ধারের কাজ চলবে
তবে জরিমানার নির্দেশ বাতিল হলেও যমুনার বন্যাভূমি ও নদী সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত। দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বন্যাভূমির পুনরুদ্ধার এবং নদী সুরক্ষার কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হল, যমুনার পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে প্রশাসন কোনওভাবেই সরে যেতে পারবে না। নদী ও তার বন্যাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ DDA-কেই নিতে হবে।
পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নিয়ে ফের প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যমুনার পরিবেশ রক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে নদী ও বন্যাভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে বড় অনুষ্ঠান বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, কোনও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে পরিবেশগত ক্ষতির জন্য দায়ী করতে হলে তার সঙ্গে ক্ষতির সরাসরি ও প্রমাণযোগ্য যোগসূত্র থাকা জরুরি।
আর্ট অব লিভিংয়ের জন্য বড় আইনি সাফল্য
সব মিলিয়ে, ২০১৬ সালের বিশ্ব সংস্কৃতি উৎসবকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। NGT-র ৫ কোটি টাকার জরিমানা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
অন্যদিকে, যমুনার পরিবেশগত পুনরুদ্ধার ও নদী সুরক্ষার দায়িত্ব DDA-র উপরই বহাল থাকল। ফলে একদিকে আর্ট অব লিভিং পেল আইনি স্বস্তি, অন্যদিকে যমুনা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব থেকে প্রশাসনকে কোনও ছাড় দেয়নি দেশের শীর্ষ আদালত।
