জাপানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত অন্তত ৩৭; কেঁপে উঠল টোকিও
জাপানে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইবারাকি ও টোকিও। কমপক্ষে ৩৭ জন আহত, ভেঙেছে পানির পাইপ, প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও।
জাপানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্ক,আহত অন্তত ৩৭
সিটি নিউজ বাংলা, এনভারনমেন্ট ডেস্ক, ২৩ আগস্ট ২০২৬: রবিবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপানের ইবারাকি প্রিফেকচার এবং রাজধানী টোকিও-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৯। ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

কম্পন অনুভূত হয় টোকিও ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও। আচমকা ভূমিকম্পে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ইবারাকির দক্ষিণে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল
জাপান আবহাওয়া সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণ অংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল।
ভূমিকম্পের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি।
সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি
ভূমিকম্পের পর জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, এই কম্পনের কারণে সুনামির কোনও ঝুঁকি নেই। ফলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলির জন্য কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
তবে ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আহত অন্তত ৩৭ জন
ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির ভিতরের জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া বা কম্পনের কারণে মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে।
টোকিওতে পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার খবর
ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী টোকিওর একটি এলাকায় পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি বাড়িতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা সংস্থাগুলি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামতের কাজ চলছে।
ট্রেন চলাচলে প্রভাব
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে জাপানের পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি রুটে ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে ধীরগতিতে চালানো হয়। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে।
জাপানে ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে রেললাইন, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পরীক্ষা করে তবেই পরিষেবা স্বাভাবিক করার রীতি রয়েছে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে।
নজরদারিতে প্রশাসন
ভূমিকম্পের পর ইবারাকি ও টোকিও অঞ্চলে প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আফটারশকের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও ভূমিকম্পের পর জাপানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। আহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
