অশোকনগরে ONGC কেন্দ্রে গ্যাসের শিখা, আগস্টেই কি বাণিজ্যিক উৎপাদন?
অশোকনগরের বাইগাছি ONGC কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় গ্যাসের শিখা দেখা গেল। ২,৮৫০ মিটার গভীরে তেল-গ্যাসের সন্ধান, আগস্টের শেষেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা।
অশোকনগরে ONGC কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় জ্বলে উঠল গ্যাসের শিখা, এবার কি বাণিজ্যিক উৎপাদন!
সিটি নিউজ বাংলা, উত্তর ২৪ পরগনা, স্টেট ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর প্রকল্পে ফের মিলল বড় সাফল্যের ইঙ্গিত। জেলার বাইগাছি এলাকার ONGC কেন্দ্রে নতুন করে পরীক্ষামূলক কাজের সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুনের শিখা দেখা যাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি আগস্ট মাসের শেষেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

অশোকনগর ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। নতুন করে কূপ খননের পর মাটির গভীরে তেল ও গ্যাসের সন্ধান মেলায় এই প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
পরীক্ষার সময় দেখা গেল গ্যাসের আগুনের শিখা
বাইগাছি ONGC কেন্দ্রে নতুন করে খনন করা কূপগুলিতে পরীক্ষা চালানোর সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে আগুনের শিখা দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তেলের স্তরের উপরে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস পরীক্ষার উদ্দেশ্যেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা জ্বালানো হয়। পরীক্ষার সময় সেই গ্যাসের শিখা দৃশ্যমান হওয়ায় ভূগর্ভে গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায়ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
২,৮৫০ মিটার গভীরে তেল-গ্যাসের সন্ধান
বাইগাছি কেন্দ্রে সম্প্রতি তিনটি নতুন কূপ খনন করা হয়েছে। মাটির প্রায় ২,৮৫০ মিটার গভীরে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা যাচ্ছে।
ভূগর্ভের এই স্তরে তেল ও গ্যাসের উপস্থিতি যাচাই করতে একাধিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আগস্টের শেষেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহেই বাইগাছি কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে কূপের উৎপাদন ক্ষমতা, গ্যাস ও তেলের মান, চাপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় যাচাই করা হবে। সমস্ত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলেই পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের দিকে এগোনো হবে।
প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
অশোকনগরের এই তেল ও গ্যাস প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুরো প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু একটি বা দুটি কূপ থেকে উৎপাদন নয়। অশোকনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সম্ভাবনাময় বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বাইগাছির পাশাপাশি ভুরকুণ্ডা ও দৌলতপুরেও কাজ
বাইগাছি ছাড়াও অশোকনগর প্রকল্পের আওতায় ভুরকুণ্ডা এবং দৌলতপুর এলাকায় বিভিন্ন কূপে খনন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজ চলছে।
এই এলাকাগুলিতেও ভূগর্ভস্থ তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অশোকনগর প্রকল্পের উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলার জ্বালানি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা
অশোকনগরে বাণিজ্যিকভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। রাজ্যের মাটির নীচে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পরিবহণ, পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য সহায়ক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে অশোকনগর ও সংলগ্ন এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে শিল্প ও জ্বালানি প্রকল্পের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন শুরু হলে সেই বিষয়গুলির উপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এখন অপেক্ষা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর
বাইগাছি কেন্দ্রে নতুন কূপে পরীক্ষার সময় গ্যাসের শিখা দেখা যাওয়ায় অশোকনগর প্রকল্প ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। প্রায় ২,৮৫০ মিটার গভীরে তেল ও গ্যাসের সন্ধান, নতুন তিনটি কূপ এবং একাধিক এলাকায় চলতে থাকা খননকাজ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এখন যাবতীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করে আগস্টের শেষেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয় কি না, সেদিকেই নজর উত্তর ২৪ পরগনা থেকে রাজ্যবাসীর।
