ধূপগুড়িতে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, কীটনাশক খেয়ে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর
ধূপগুড়িতে পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে কীটনাশক খেয়ে থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের।
পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, কীটনাশক খেয়ে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর
জলপাইগুড়ি, স্টেট ডেস্ক : পারিবারিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। রবিবার সাতসকালে বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেমটিয়া এলাকায় স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খু*ন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই বিবাদ চরমে পৌঁছলে জাহাঙ্গীর আলম ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রী রুকসানা বেগমের উপর হামলা চালান। একের পর এক কোপে গুরুতর জখম হন রুকসানা। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ*ত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সময় পুত্রবধূকে বাঁচাতে অভিযুক্তের মা এগিয়ে এলে তাঁকেও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। জাহাঙ্গীর আলম নিজেই কীটনাশক পান করেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি সরাসরি ধূপগুড়ি থানায় পৌঁছে আ*ত্মসমর্পণ করেন। থানায় পৌঁছনোর পর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং তাঁর চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুকসানা বেগমের দেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি সামনে এলেও ঠিক কী কারণে এই চরম ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দাম্পত্য জীবনে আগে থেকেই কোনও সমস্যা ছিল কি না, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল কি না এবং অভিযুক্তের নেশাসক্তির কোনও যোগ রয়েছে কি না—সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রায় তিন বছরের বিবাহিত জীবনের পর এভাবে রুকসানা বেগমের মৃ*ত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
অন্যদিকে, প্রকাশ্য দিনের আলোয় বাড়ির মধ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। ময়*নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
