গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১২
গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মহিলাসহ ১২ জন গ্রেপ্তার। পুলিশকর্মীদের মারধর, আদালতের হেফাজতের নির্দেশ এবং তদন্তের বিস্তারিত জানুন।
গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা-ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১২
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক : কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মহিলাসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজত এবং বাকিদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে গীতালদহের সীমান্তবর্তী জারিধরলা গ্রাম থেকে সামাদ আলি ওরফে ‘পাগলা’ নামে এক ব্যক্তিকে একটি পুরনো হত্যা ও পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সামাদ আলির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর অনুগামী এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জড়ো হন। প্রথমে বিক্ষোভ ও দাবি-দাওয়া চললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
গেট ভেঙে ফাঁড়ির ভিতরে ঢোকার অভিযোগ
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ফাঁড়ির মূল গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর ফাঁড়ির ভিতরে থাকা চেয়ার-টেবিল ও বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী এবং নথিপত্রে ভাঙচুর চালানো হয়। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
হঠাৎ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ফাঁড়িতে থাকা পুলিশকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত দিনহাটা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়।
তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার ১২
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর গীতালদহ ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশি অভিযানে মহিলাসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আদালতে পেশ, হেফাজতের নির্দেশ
গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জনকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। শুনানি শেষে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে এবং বাকিদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
গীতালদহ এলাকা আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় ঘটনাটিকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। কোনওভাবে যাতে নতুন করে উত্তেজনা বা অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই মোকাবিলা করতে হবে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যদিকে, সামাদ আলি ওরফে পাগলাকে যে পুরনো হত্যা ও পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই মামলার তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং আগের মামলাগুলির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গীতালদহ ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় একসঙ্গে ১২ জনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে দিনহাটায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর এখন পুলিশের তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই ঘটনায় আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
