দিল্লিতে লাল সতর্কতা, জলমগ্ন রাজধানী, বাতিল-দেরি শত শত বিমান
টানা প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন দিল্লি ও NCR। জারি লাল সতর্কতা, ২৬ বিমান বাতিল, ৩৯০টির বেশি বিমান দেরি। বাড়ছে যমুনার জলস্তর।
জলমগ্ন রাজধানী, জারি লাল সতর্কতা ! বাতিল-দেরি শত শত বিমান
সিটি নিউজ বাংলা, নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল তেস্ক ৮ : টানা দু’দিনের প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত দেশের রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল বা NCR। একটানা ভারী বর্ষণের জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন, বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট এবং বিমান পরিষেবাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় লাল সতর্কতা বা Red Alert জারি করেছে।

দিল্লির রাজপথ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর—প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে প্রায় সর্বত্র। বহু নিচু এলাকায় জল জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান জল পেরিয়ে মানুষকে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। একইসঙ্গে যমুনার জলস্তর বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিমান পরিষেবায় বড় ধাক্কা
অবিরাম বৃষ্টির সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলির একটি পড়েছে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। রানওয়েতে জল জমা এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমান ওঠানামায় ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে দিল্লিগামী অন্তত ১৫টি বিমান নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে না পেরে জয়পুর, চণ্ডীগড় এবং লখনউয়ের মতো বিকল্প বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৬টি বিমান বাতিল এবং ৩৯০টিরও বেশি বিমান দেরিতে চলাচল করেছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়ানের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলের তলায়
প্রবল বৃষ্টিতে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সংযোগস্থলে জল জমে যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনট প্লেস, আইটিও, এইমস চত্বর, মিন্টো ব্রিজ এবং সংসদ ভবনের আশপাশের একাধিক রাস্তায় জল জমে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। আউটার রিং রোড, জল বিহার, সিভিল লাইন্স এবং রোহিণী-সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার জেরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষকে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বের না হওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
বাড়ছে যমুনার জলস্তর, বন্যার আশঙ্কা
টানা বৃষ্টির পাশাপাশি যমুনা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নদীর আশপাশের নিচু এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস, বাড়ি থেকে কাজের পরামর্শ
অতিবৃষ্টির কারণে পড়ুয়া এবং কর্মীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দিল্লি-NCR-এর বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে বিভিন্ন কর্পোরেট ও বেসরকারি সংস্থাকে কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা WFH-এর সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বের হতে না হয় এবং যানজট ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমানো যায়।
কেন এত প্রবল বৃষ্টি দিল্লিতে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ভারতের শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র জলীয়বাষ্পপূর্ণ পূবালী বাতাসের পারস্পরিক প্রভাবের কারণে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শক্তিশালী মেঘমালা তৈরি হয়েছে। এর ফলেই স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার কারণে প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাভাবিক জীবন ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিমান পরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অফিসযাত্রা—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বহু রাস্তায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে এবং বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জল নিষ্কাশনের কাজ চালানো হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লাল সতর্কতার মধ্যে দিল্লির সামনে এখন মূল লক্ষ্য জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যমুনার জলস্তর বাড়ার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা করা।
