খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে কোচবিহারে কড়া নজরদারি, খাদ্য দপ্তর-পুলিশের যৌথ অভিযান
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম ও মজুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান।
খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে কোচবিহারে কড়া নজরদারি, খাদ্য দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ২০ : নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার আরও সক্রিয় প্রশাসন। বাজারে কোনও পণ্য নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, বেআইনিভাবে খাদ্যসামগ্রী মজুত করা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়ে নজরদারি চালাতে কোচবিহার শহরের বিভিন্ন বাজারে যৌথ অভিযান চালাল খাদ্য দপ্তর ও জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার কোচবিহার শহরের ভবানীগঞ্জ বাজার-সহ একাধিক এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন মুদিখানা ও খাদ্যসামগ্রীর দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পণ্যের দাম ও মজুত সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেন।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দামের উপর নজর রাখা। বিশেষ করে চিনি-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বিক্রয়মূল্য কত রাখা হয়েছে, দোকানে বিক্রির সময় ক্রেতাদের সঠিক রসিদ দেওয়া হচ্ছে কি না এবং দোকানে কত পরিমাণ পণ্য মজুত রয়েছে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
পাশাপাশি, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের ক্রয় ও বিক্রির হিসাব সম্পর্কেও জানতে চান আধিকারিকরা। কোনও দোকানে দামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, কিংবা মজুতের ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হচ্ছে কি না, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই অভিযানে বাজারের ব্যবসায়ী মহলেও তৎপরতা দেখা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে যাতে সাধারণ ক্রেতাদের কোনওরকম সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে পণ্য বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বাজারে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নিয়ে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি, ভুয়ো বা অনিয়মিত রসিদ দেওয়া কিংবা বেআইনিভাবে খাদ্যসামগ্রী মজুতের মতো ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ করে কোনও পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও প্রশাসনের নজর থাকবে বলে জানা গিয়েছে। বাজারে সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে আগামী দিনেও আরও একাধিক বাজারে অভিযান চালানো হতে পারে।
খাদ্য দপ্তর ও পুলিশের এই যৌথ নজরদারিকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম যাতে অযথা বৃদ্ধি না পায় এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ না ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোচবিহার জেলার বিভিন্ন বাজারে আগামী দিনেও নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শন চালানো হবে। কোথাও কোনও ব্যবসায়ী নিয়ম লঙ্ঘন করছেন বলে প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে আগামী দিনে বাজারে খাদ্যসামগ্রীর দাম ও মজুত পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজর আরও জোরদার হতে চলেছে।
