অপারেশন সিঁদুরে কিরানা হিলসে ড্রোন পড়ার রহস্য, বড় দাবি প্রাক্তন CDS অনিল চৌহানের
অপারেশন সিঁদুরের সময় কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোন পড়া নিয়ে বড় দাবি প্রাক্তন CDS অনিল চৌহানের। কেন সেখানে ড্রোন আছড়ে পড়েছিল, জানুন বিস্তারিত।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বড় দাবি প্রাক্তন CDS অনিল চৌহানের, কিরানা হিলসে ড্রোন পড়ার রহস্যে নতুন ব্যাখ্যা
নয়াদিল্লি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় নতুন ব্যাখ্যা দিলেন ভারতের প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। তাঁর দাবি, কিরানা হিলসকে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেনি। সারগোধা এলাকায় পাকিস্তানি রাডার খুঁজতে পাঠানো একটি লয়টারিং মুনিশন নির্দিষ্ট লক্ষ্য খুঁজে না পাওয়ার পর জ্বালানি শেষ হয়ে ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে থাকতে পারে।

২৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুর এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ব্যাখ্যা দেন প্রাক্তন CDS। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সারগোধা ও সংলগ্ন এলাকায় রাডার ব্যবস্থা শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ভারত একাধিক লয়টারিং মুনিশন মোতায়েন করেছিল।
সারগোধাকে লক্ষ্য করেই পাঠানো হয়েছিল ড্রোন
জেনারেল চৌহান জানিয়েছেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সারগোধা অঞ্চলে একাধিক লয়টারিং মুনিশন পাঠানো হয়েছিল। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। ওই ড্রোনগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি রাডারের অবস্থান শনাক্ত করা। নির্দিষ্ট লক্ষ্য চিহ্নিত হলে সেখানে আঘাত হানার পরিকল্পনাও ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহৃত মুনিশনগুলির মধ্যে ইসরায়েলি নকশার হারোপ-জাতীয় ড্রোন থাকার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এই ধরনের লয়টারিং মুনিশন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করে সম্ভাব্য লক্ষ্য খুঁজতে পারে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত না হলে মিশন শেষ হয়ে যেতে পারে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লক্ষ্য খোঁজার পর ফুরিয়ে যায় জ্বালানি?
প্রাক্তন CDS-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই ধরনের লয়টারিং মুনিশনের কার্যক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, যা প্রায় দুই ঘণ্টার মতো হতে পারে। সারগোধার আকাশে ঘোরার পর কোনও নির্দিষ্ট রাডার শনাক্ত না হলে মুনিশনটি অনির্দিষ্টকাল আকাশে থাকতে পারে না। জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কোনও এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে।
এই কারণেই একটি ভারতীয় মুনিশন কিরানা হিলসের কোনও একটি পাহাড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জেনারেল চৌহান। অর্থাৎ, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল না; বরং নির্ধারিত মিশন শেষ হয়ে যাওয়ার ফলেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ কিরানা হিলস?
পাকিস্তানের কিরানা হিলস অঞ্চলটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এলাকাকে পাকিস্তানের পারমাণবিক পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে ভারতীয় অস্ত্র বা ড্রোন আছড়ে পড়ার খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন ও জল্পনা।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—ভারত কি ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের পারমাণবিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেছিল? জেনারেল অনিল চৌহানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলস ভারতের ঘোষিত বা নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল না।
আগের বক্তব্যের সঙ্গেও মিল
প্রাক্তন CDS-এর বক্তব্যের সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া ব্যাখ্যারও মিল রয়েছে। তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অফ এয়ার অপারেশনস এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী জানিয়েছিলেন, ভারত কিরানা হিলসকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জেনারেল চৌহানও সেই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছেন।
অপারেশন সিঁদুরের আরও তথ্য সামনে
কিরানা হিলসের ঘটনা ছাড়াও অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে আরও কিছু তথ্য জানিয়েছেন জেনারেল চৌহান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্কারদু বিমানঘাঁটিতে হামলার অনুমতি ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। পরে ভোলারি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কিরানা হিলসে ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনাটিও সেই জটিল সামরিক অভিযানের একটি অনিচ্ছাকৃত পরিণতি বলে এখন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।
বাড়েনি পারমাণবিক উত্তেজনা, পরিষ্কার ঘটনার প্রকৃতি
কিরানা হিলসকে ঘিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল—যদি ভারতের কোনও অস্ত্র ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের পারমাণবিক পরিকাঠামোর কাছে আঘাত হানে, তাহলে তার কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কিরানা হিলসকে লক্ষ্য করে কোনও পরিকল্পিত ভারতীয় হামলা চালানো হয়নি।
তবে প্রাক্তন CDS নিজেও ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ড্রোনের দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো একটি লয়টারিং মুনিশন নির্দিষ্ট লক্ষ্য না পেয়ে জ্বালানি শেষ হওয়ার পর কিরানা হিলসের কোনও অংশে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে।
ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোন পড়ার ঘটনাকে ঘিরে এতদিনের জল্পনায় নতুন একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সামনে এল।
