যাদবপুর সংঘর্ষের তদন্তে নতুন কমিটি, নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব চট্টোপাধ্যায়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ ও ২০ আগস্টের সংঘর্ষের তদন্তে নতুন কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হবে তদন্ত, ২৭ আগস্ট প্রথম বৈঠক।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের তদন্তে নতুন কমিটি, নেতৃত্বে প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৫ : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, গোলমাল ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন। প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রধান শুভশঙ্কর সরকার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে নতুন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৯ ও ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল—তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
প্রথমে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারকে। কিন্তু তাঁর নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষক সংগঠনের একাংশের আপত্তি সামনে আসে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণও দেখিয়ে তিনি তদন্ত কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তকে আরও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়কে নতুন কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারবিভাগীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত হলে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নতুন কমিটির দায়িত্ব হবে ১৯ ও ২০ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত অনুসন্ধান করা। সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, ক্যাম্পাসে কারা উপস্থিত ছিলেন, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না—সহ একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ঘটনার সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন
অংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিক পদক্ষেপ নিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্যও তদন্ত কমিটির সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক ২৭ আগস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে তদন্তের রূপরেখা, অভিযোগ ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মী এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের সিদ্ধান্তকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক, ছাত্র এবং বিভিন্ন সংগঠনের নজর এখন নতুন কমিটির কাজের দিকে। বিশেষ করে ১৯ ও ২০ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনায় কী তথ্য সামনে আসে এবং তদন্ত শেষে কমিটি কী সুপারিশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মহল।
সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তির ঘটনায় তদন্তে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। প্রথম কমিটির প্রধানের পদত্যাগের পর এবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে নতুন তদন্ত কমিটি কতটা নিরপেক্ষভাবে গোটা ঘটনার ছবি সামনে আনে, আগামী দিনের তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।
