চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি, শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার ৩! উদ্ধার ২৮ লক্ষের সোনা
কোচবিহারে চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির ঘটনায় শিলিগুড়ি থেকে ৩ জন গ্রেফতার। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার ১৯৩ গ্রাম সোনা, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা।
চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৩! উদ্ধার প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার সোনা
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ৩ : চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য কোচবিহার জেলা পুলিশের। কোচবিহার শহরের কদমতলা বাজার মাঠ এলাকার এক চিকিৎসকের বাড়িতে চুরির তদন্তে নেমে শিলিগুড়ি থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ প্রায় ১৯৩ গ্রাম। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার শহরজুড়ে।
চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি ঘিরে চাঞ্চল্য
ঘটনাটি ঘটে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত কদমতলা বাজার মাঠ এলাকার একটি বাড়িতে। ওই বাড়িটি এক চিকিৎসকের বলে জানা গিয়েছে। বাড়িতে চুরির ঘটনা নজরে আসার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। চুরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী কোথায় রয়েছে, তা জানতে বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের সূত্র ধরে শিলিগুড়িতে অভিযান
তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায় বলে জানা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই কোচবিহার থেকে তদন্তের গতিপথ পৌঁছে যায় শিলিগুড়িতে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের অভিযোগ, চুরি যাওয়া সামগ্রী নিজেদের কাছে রাখার সঙ্গে ধৃতদের যোগ রয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার সোনা
গ্রেফতারের পর ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৯৩ গ্রাম নিরেট সোনা। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। চিকিৎসকের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে এই সোনা ছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
চোরাই সোনা উদ্ধারের পাশাপাশি চুরির ঘটনায় আরও কী কী সামগ্রী খোয়া গিয়েছে এবং তার কোনও অংশ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
আরও তথ্যের খোঁজে পুলিশ
তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, চুরির পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল এবং চুরি হওয়া বাকি সামগ্রী কোথায় রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
শিলিগুড়ি থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলেই মনে করছে কোচবিহার জেলা পুলিশ। এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তদন্তে চুরি-কাণ্ডের আরও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
