নেপালে হিমবাহ ধসে হরপা বন্যা, নিখোঁজ বহু পর্যটক; সীমান্তে হাই অ্যালার্ট
নেপালে হিমবাহ ধসের জেরে আকস্মিক হরপা বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি। নিখোঁজ বহু পর্যটক, সীমান্তবর্তী এলাকায় হাই অ্যালার্ট, শুরু উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।
আকস্মিক হরপা বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, নিখোঁজ বহু পর্যটক—সীমান্তে হাই অ্যালার্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিটি নিউজ বাংলা, এনভায়রনমেন্ট ডেস্ক ২ : নেপালে হিমবাহ ধস এবং তার জেরে আকস্মিক বন্যায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল জলস্রোত নেমে আসায় একাধিক জায়গায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী ও জলধারাগুলিতে আচমকা জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই জলস্রোত নীচের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটকদের নিয়ে। নেপালের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়া বেশ কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে খবর। তাঁদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও নাগরিকদের খোঁজখবর নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেপালে থাকা পর্যটক বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাতে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং নিখোঁজ বা বিপদে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা
তৈরি হয়েছে। সেই কারণে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী ও জলাধারের জলস্তর, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সামগ্রিক অবস্থার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
https://youtu.be/iGSNwNaU9B4?si=8S9YmyjmI78_On7A
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নদী, পাহাড়ি ঝরনা এবং জলস্রোত সংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নেপালে থাকা ভারতীয় পর্যটকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলবে। নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিপর্যয়ের পূর্ণ মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।
