প্যাকেটজাত খাবারে লাল হেক্সাগন সতর্কবার্তা! FSSAI-এর নতুন প্রস্তাব
প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি চিহ্নিত করতে লাল হেক্সাগন সতর্কবার্তা চালুর প্রস্তাব FSSAI-এর। জানুন নতুন লেবেলিং নিয়ম।
প্যাকেটজাত খাবারে এবার লাল সতর্কবার্তা! থাকবে বড় হেক্সাগন লেবেল
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক : প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতাদের আরও সচেতন করতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা FSSAI। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার চিহ্নিত করার জন্য প্যাকেটের সামনের অংশে লাল রঙের ষড়ভুজাকৃতির (Hexagonal) সতর্কবার্তা লেবেল ব্যবহারের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে এই প্রস্তাবের রূপরেখা জমা দেওয়া হয়েছে। প্যাকেটের পিছনে থাকা দীর্ঘ পুষ্টি তালিকা দেখে অনেক সময় সাধারণ ক্রেতার পক্ষে খাবারে চিনি, লবণ বা চর্বির পরিমাণ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণে প্যাকেটের সামনেই সহজে চোখে পড়ার মতো সতর্কবার্তা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কী থাকবে নতুন সতর্কবার্তা লেবেলে?
প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও প্যাকেটজাত খাবারে নির্ধারিত সীমার তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি, লবণ বা চর্বি থাকলে প্যাকেটের সামনের দিকে বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
লাল রঙের ষড়ভুজাকৃতির বাক্সের মধ্যে লেখা থাকতে পারে—
- “High Fat” — অতিরিক্ত চর্বি
- “High Salt” — অতিরিক্ত লবণ
- “High Sugar” — অতিরিক্ত চিনি
- “Highly Sweetened Beverage” — অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত পানীয়
- https://youtu.be/ta-l85KY4HY?si=L3vY7RcQdVac4YP2
এর ফলে দোকানে কোনও প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় প্যাকেটের সামনের অংশ দেখেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন, সেই খাবারে সংশ্লিষ্ট উপাদান অতিরিক্ত রয়েছে কি না।
ICMR-NIN-এর মাপকাঠিতে নির্ধারিত হবে মাত্রা
এই সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুষ্টিগত সীমা নির্ধারণে ICMR-NIN-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেই সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে লেবেলের দৃশ্যমানতার ওপর। প্রস্তাব অনুযায়ী, সামনের অংশে থাকা সতর্কবার্তার অক্ষরের আকার প্যাকেটের পিছনের পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্যের তুলনায় বড় রাখা হবে, যাতে সাধারণ ক্রেতার চোখে সহজেই পড়ে।
ধাপে ধাপে চালু হতে পারে নতুন নিয়ম
FSSAI-এর প্রস্তাবে এই ব্যবস্থা একবারে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর না করে দুই ধাপে চালু করার পরিকল্পনার কথা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে, কোনও খাবারে লবণ, চিনি বা চর্বির মধ্যে যেকোনও দুটি বা তার বেশি উপাদান নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ম আরও কঠোর করা হতে পারে। তখন কোনও একটি উপাদান—চিনি, লবণ অথবা চর্বি—এককভাবেও নির্ধারিত সীমার বেশি থাকলে প্যাকেটের সামনে সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোন খাবারগুলিতে ছাড় মিলতে পারে?
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কিছু মৌলিক বা একক উপাদানের খাবারকে এই সতর্কবার্তার আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘি, ভোজ্য তেল, লবণ, চিনি, গুড় ও মধু-র মতো পণ্য।
কারণ, এই ধরনের পণ্য সাধারণত কোনও জটিল মিশ্রণজাত প্যাকেটজাত খাবার নয়; এগুলি মূলত একক উপাদান হিসেবেই বাজারজাত করা হয়।
কেন এই পরিবর্তনের উদ্যোগ?
অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অনেক সময় আকর্ষণীয় প্যাকেট, বিজ্ঞাপন বা বিভিন্ন ধরনের প্রচারের কারণে ক্রেতারা খাবারের পুষ্টিগত গুণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য না জেনেই পণ্য কিনে ফেলেন।
সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে কেনার আগে ক্রেতারা আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার পর FSSAI-এর এই প্রস্তাবকে প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলিং ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি কীভাবে এবং ঠিক কোন সময়সীমায় কার্যকর হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
ফলে ভবিষ্যতে দোকানে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা বিজ্ঞাপনের দিকে নয়, প্যাকেটের সামনের লাল সতর্কবার্তার দিকেও নজর দিতে হতে পারে ক্রেতাদের।
