কোচবিহারের হারানো গরিমা ফেরাতে নরসিংহ দীঘিতে গঙ্গা পূজা, মাছ ছাড়লেন রথীন্দ্র বোস
কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ দীঘিতে গঙ্গা পূজা ও মাছ ছাড়ার কর্মসূচি। জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ও শহরের হারানো গরিমা ফেরানোর উদ্যোগ রথীন্দ্র বোসের।
কোচবিহারের হারানো গরিমা ফেরাতে নরসিংহ দীঘিতে গঙ্গা পূজা ও মাছ ছাড়লেন রথীন্দ্র বোস
কোচবিহার: একসময় ‘রাজার শহর’ হিসেবে গোটা বাংলায় পরিচিত ছিল কোচবিহার। শুধু রাজবাড়ি বা ঐতিহাসিক স্থাপত্য নয়, শহরের একাধিক প্রাচীন দীঘি ও জলাশয়ও কোচবিহারের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের অন্যতম পরিচয় বহন করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য ও গরিমা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের প্রাচীন জলাশয়গুলির সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে এবার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হল।

কোচবিহার শহরের ঐতিহ্যবাহী দীঘিগুলিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলার লক্ষ্যে শনিবার নরসিংহ দীঘিতে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বোসের উদ্যোগে সম্পূর্ণ নিয়ম-নীতি মেনে সেখানে গঙ্গা পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে নরসিংহ দীঘিতে মাছও ছাড়া হয়।
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। আয়োজকদের বক্তব্য, কোচবিহারের প্রাচীন দীঘি ও পুকুরগুলি শুধু জলাধার নয়, এগুলি শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দূষণ এবং বিভিন্ন কারণে জলাশয়গুলির স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জলাশয়গুলিতে ফের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রথীন্দ্র বোস বলেন, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার শুধু মানুষের নয়, সমস্ত প্রাণীরই সমান অধিকার রয়েছে। তাই জলাশয়গুলিকে কেন্দ্র করে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কোচবিহার শহরের পুকুর ও দীঘিগুলিতে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রথীন্দ্র বোসের বক্তব্য, কোচবিহারকে শুধু ইতিহাসের পাতায় ‘রাজার শহর’ হিসেবে রেখে দিলে হবে না। শহরের ঐতিহ্য, প্রাচীন জলাশয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করে সেই গরিমাকে বাস্তবেও ফিরিয়ে আনতে হবে। শহরের বিভিন্ন দীঘি ও পুকুরের সংস্কার এবং সেগুলিতে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে কোচবিহারের পুরনো সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
শনিবারের কর্মসূচিতে রথীন্দ্র বোস ছাড়াও বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গা পূজার পাশাপাশি দীঘিতে মাছ ছাড়ার কর্মসূচিকে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন আয়োজকরা।
কোচবিহারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন দীঘি ও জলাশয়। শহরের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি এই জলাশয়গুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলজ প্রাণীদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। সেই লক্ষ্যেই নরসিংহ দীঘি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আগামী দিনে কোচবিহারের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জলাশয়েও ছড়িয়ে পড়বে কি না, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
