উজবেকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী মোদী, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা-শক্তি
উজবেকিস্তান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা।
উজবেকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী মোদী, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয় বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা-শক্তি
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ২ : দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৯ ও ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর এই সফরকে ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তাসখন্দে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর একাধিক সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
🤝 প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
🌐 এরপর SCO সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদী
উজবেকিস্তান সফর শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তিনি ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা SCO শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
SCO-র মঞ্চে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।
🇮🇳 ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গেও যোগসূত্র
প্রধানমন্ত্রী মোদীর উজবেকিস্তান সফরে শুধু কূটনৈতিক বৈঠকই নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন কয়েকটি কর্মসূচিও রয়েছে। তাসখন্দে তিনি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে ভারত-উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরা হবে।
🔎 নজরে ভারত-মধ্য এশিয়া সম্পর্ক
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। উজবেকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং এরপর SCO-র শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ—দুটি কর্মসূচিই ভারতের বৃহত্তর মধ্য এশিয়া নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তাসখন্দে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশকেকে বহুপাক্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চাইছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশের সফর কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
