স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি, বাঁশবাগানে ঘুমোচ্ছেন ‘নিখোঁজ’ গোবিন্দ!
কোচবিহারের সাহেবগঞ্জে জলাশয়ে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ শ্রমিক গোবিন্দ। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় স্পিডবোটে তল্লাশি শুরু হলেও শেষে বাঁশবাগানে ঘুমন্ত অবস্থায় মিলল তাঁর সন্ধান।
স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি , শেষে দেখা গেল বাঁশবাগানে দিব্যি ঘুমোচ্ছেন গোবিন্দ

কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ৭ : জলাশয়ে কাজ করতে নেমে হঠাৎ এক শ্রমিক নিখোঁজ! খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয় চাঞ্চল্য। সহকর্মীদের আশঙ্কা, জলে ডুবে গিয়েছেন ওই শ্রমিক। খবর যায় পুলিশে। শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। নামানো হয় স্পিডবোট, জলাশয়ে চলে তন্নতন্ন করে খোঁজ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর যে দৃশ্য সামনে এল, তাতে রীতিমতো অবাক পুলিশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা—জলাশয়ে নয়, নিখোঁজ শ্রমিক দিব্যি ঘুমোচ্ছেন পাশের বাঁশবাগানে!
ঘটনাটি কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি জলাশয়ের। শুক্রবার সকালে সেখানে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে নেমেছিলেন মোট ১০ জন শ্রমিক। কাজ চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু দুপুরে কাজ শেষ হওয়ার পর জলাশয় থেকে একে একে ৯ জন শ্রমিক উঠে এলেও দেখা মেলেনি তাঁদের এক সহকর্মী গোবিন্দের।
৯ জন উঠলেন, একজনের দেখা নেই
জলাশয়ে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর শ্রমিকরা যখন বাইরে আসতে শুরু করেন, তখনই বোঝা যায় গোবিন্দ তাঁদের সঙ্গে নেই। প্রথমে সহকর্মীরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ডাকাডাকি করেও তাঁর কোনও সাড়া না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
জলাশয়ে কাজ করার সময় তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল বলে সহকর্মীদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, হয়তো তিনি জলে পড়ে গিয়েছেন। বিষয়টি ক্রমশ গুরুতর আকার নেয়। খবর দেওয়া হয় সাহেবগঞ্জ থানায়।
পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তল্লাশি
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও খবর দেওয়া হয়। শুরু হয় জলাশয়ে তল্লাশি অভিযান।
তল্লাশির জন্য নামানো হয় স্পিডবোট। জলাশয়ের বিভিন্ন অংশে ঘুরে ঘুরে খোঁজ চালানো হয়। কোথাও ওই শ্রমিকের কোনও সন্ধান মেলে কি না, তা দেখতে জলের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখা হয়।
এদিকে গোবিন্দের সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। নিখোঁজ শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য চারদিকে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি।
শেষে মিলল ‘নিখোঁজ’ শ্রমিকের সন্ধান!
দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর অবশেষে গোটা ঘটনার আসল রহস্য সামনে আসে। দেখা যায়, জলাশয়ের পাশে থাকা একটি বাঁশবাগানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে শুয়ে রয়েছেন গোবিন্দ।
অর্থাৎ, জলে ডুবে যাওয়া তো দূরের কথা, জলাশয়ের কাছেই বেশ আরাম করে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। কাজ শেষে সহকর্মীরা যখন তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন তিনি সম্ভবত কাজের ফাঁকে বাঁশবাগানের ঠান্ডা ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
চারপাশে হইচই, তবুও ঘুম ভাঙেনি!
সবচেয়ে মজার বিষয়, তাঁকে খুঁজতে যখন পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যস্ত, জলাশয়ে যখন স্পিডবোট নিয়ে তল্লাশি চলছে, চারপাশে যখন ডাকাডাকি ও হইচই চলছে—তখনও গোবিন্দের ঘুম ভাঙেনি বলে জানা গিয়েছে।
অবশেষে বাঁশবাগান থেকে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সহকর্মী ও স্থানীয়রা। একইসঙ্গে এতক্ষণ ধরে চলা উদ্বেগ ও তল্লাশি অভিযানও মুহূর্তে পরিণত হয় হাসির ঘটনায়।
স্বস্তি ফিরল এলাকায়
গোবিন্দকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার পর স্বস্তি ফেরে সাহেবগঞ্জ এলাকায়। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে জলাশয়ে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে উঠল চর্চার বিষয়।
নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনও খামতি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ‘নিখোঁজ’ শ্রমিককে জলাশয় থেকে নয়, জলাশয়ের পাশের বাঁশবাগান থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় উদ্ধার করার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হাসির রোল উঠেছে।
