বেনারসের আদলে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বৈরাগী দিঘিতে শুরু হল গঙ্গা আরতি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই আয়োজনে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
কোচবিহারের বৈরাগী দিঘিতে ‘গঙ্গা আরতি’- ধর্মীয় আবহে নতুন সংযোজন

কোচবিহার: বেনারসের গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যার গঙ্গা আরতির আবহ এবার দেখা গেল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বৈরাগী দিঘির পাড়েও। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৈরাগী দিঘিতে শুরু হল বিশেষ ‘গঙ্গা আরতি’। এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
কোচবিহারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আবহকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন বলে জানা গিয়েছে। বেনারসের গঙ্গা আরতির আদলে সাজানো হয় বৈরাগী দিঘির পাড়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরতির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোস।
গঙ্গা আরতিকে কেন্দ্র করে বৈরাগী দিঘির পাড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর আধ্যাত্মিক পরিবেশ। সন্ধ্যার আবহে প্রদীপ, ধূপ, শঙ্খধ্বনি এবং ধর্মীয় মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয়দের পাশাপাশি বহু মানুষ এই বিশেষ আয়োজন দেখতে উপস্থিত হন।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কোচবিহারের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন যুক্ত হলে শহরের আকর্ষণ আরও বাড়বে। একইসঙ্গে পর্যটকদের কাছেও বৈরাগী দিঘি নতুনভাবে পরিচিতি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, কোচবিহার বরাবরই তার রাজ আমলের ঐতিহ্য, মন্দির, দিঘি এবং নানা সাংস্কৃতিক পরম্পরার জন্য পরিচিত। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন সংযোজন হিসেবে বৈরাগী দিঘিতে গঙ্গা আরতির আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
আয়োজকদের আশা, আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে এই ধরনের আরতি ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু রাখা গেলে বৈরাগী দিঘিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি কোচবিহারের পর্যটন মানচিত্রেও এই স্থানটি নতুন গুরুত্ব পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, বেনারসের গঙ্গা আরতির আদলে কোচবিহারের বৈরাগী দিঘিতে এই নতুন উদ্যোগে শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যোগ হল এক নতুন মাত্রা। সন্ধ্যার আরতির মায়াবী পরিবেশ ইতিমধ্যেই মন কেড়েছে উপস্থিত মানুষের।
