মধ্যপ্রদেশে ‘নো ইন্স্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি, বীমা না থাকলে মিলবে না জ্বালানি
মধ্যপ্রদেশে চালু হতে চলেছে ‘নো ইন্স্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি। বৈধ মোটরবীমা না থাকলে পেট্রোল-ডিজেল মিলবে না। ANPR ক্যামেরায় হবে বীমা যাচাই।
মহারাষ্ট্রে চালু হতে চলেছে ‘ নো ইন্সুরেন্স, নো ফুয়েল ‘ নীতি

মধ্যপ্রদেশ, ন্যাশনাক ডেস্ক ৮ : সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের রোড সেফটি কমিটির নির্দেশনা মেনে মধ্যপ্রদেশে চালু হতে চলেছে ‘নো ইন্স্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি। এই নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ মোটরবীমা ছাড়া কোনও গাড়ি পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল বা ডিজেল পাবে না।
রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬১ লক্ষ গাড়ির বৈধ বীমা নেই বলে জানা গিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং গাড়ির মালিকদের সময়মতো বীমা নবায়নে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পেট্রোল পাম্পে বসবে ANPR ক্যামেরা
এই নীতি কার্যকর করতে রাজ্যের পেট্রোল পাম্পগুলিতে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন বা ANPR ক্যামেরা বসানো হবে। ক্যামেরাগুলি গাড়ির নম্বরপ্লেট স্ক্যান করে কেন্দ্রীয় ‘বাহন’ (VAHAN) পোর্টালের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বীমার বৈধতা যাচাই করবে।
বীমা বৈধ থাকলে গাড়িতে জ্বালানি ভরা যাবে। কিন্তু বীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা গাড়িটির কোনও বৈধ মোটরবীমা না থাকলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে পেট্রোল পাম্প থেকেই গাড়ির বীমা-স্থিতি যাচাই করা সম্ভব হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
প্রশাসনের মতে, বৈধ বীমা না থাকা গাড়ির সংখ্যা কমানো গেলে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বর্তমানে বহু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা গাড়ির বীমা না থাকায় আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির মালিকদের বীমা নবায়নে বাধ্য করা এবং সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নথিপত্র নিয়মিত রাখার প্রবণতা বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে এই উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে শুরু হবে কার্যকর
প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্পে ANPR ক্যামেরা ও VAHAN পোর্টালের তথ্য সংযুক্ত করে প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনা করার পর ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পেট্রোল পাম্পেও এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।
তবে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, তথ্য হালনাগাদে বিলম্ব এবং বীমা নবায়নের পর VAHAN পোর্টালে তথ্য আপডেট হতে সময় লাগার মতো বিষয়গুলি প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাই পাইলট পর্যায়ে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
গাড়ির মালিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ির মালিকদের বীমার মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করে সময়মতো তা নবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বীমা সংক্রান্ত তথ্য VAHAN পোর্টালে সঠিকভাবে আপডেট হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করতে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে বৈধ বীমাবিহীন যানবাহনের সংখ্যা কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে এবং যানবাহনের নথিপত্র নিয়মিত রাখার ক্ষেত্রে ‘নো ইন্স্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
