জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবসে কোচবিহারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবস উপলক্ষে কোচবিহার শহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সার্কাস ময়দান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে ফের সেখানেই শেষ হয় মিছিল।
জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবসে কোচবিহারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১২ : জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবছরও কোচবিহার শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আমেজে এদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কোচবিহার শহরের সার্কাস ময়দান থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। পরে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে ফের সার্কাস ময়দানেই এসে শেষ হয় মিছিলটি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের সার্কাস ময়দান এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকেরা নির্ধারিত সময়ে সেখানে জমায়েত হন। এরপর সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
সার্কাস ময়দান থেকে শুরু শোভাযাত্রা
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রার সূচনা হয় কোচবিহার শহরের ঐতিহ্যবাহী সার্কাস ময়দান থেকে। সেখান থেকে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করার সময় জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের পরিবেশের মধ্যেই নির্ধারিত রুট ধরে এগিয়ে চলে শোভাযাত্রা।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা
সার্কাস ময়দান থেকে শুরু হওয়ার পর শোভাযাত্রাটি কোচবিহার শহরের পুলিশ লাইন, পাওয়ার হাউজ চৌপথি, মীনা কুমারি চৌপথি, দাস ব্রাদার্স, হরিশপাল চৌপথি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে।
শহরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে শোভাযাত্রা যাওয়ার সময় রাস্তার দু’ধারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের পরিবেশে উৎসবের ছোঁয়া দেখা যায়।
ধর্মীয় আবহে উদযাপন
জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে প্রতিবছর দেশজুড়ে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পুজো, কীর্তন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কোচবিহারেও সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
স্থাপনা দিবসের কর্মসূচিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে একইসঙ্গে ধর্মীয় উৎসব এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
ফের সার্কাস ময়দানে এসে শেষ
শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করার পর শোভাযাত্রাটি পুনরায় সার্কাস ময়দানে ফিরে আসে। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবেই শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জন্মাষ্টমী ও স্থাপনা দিবস উপলক্ষে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাকে ঘিরে এদিন কোচবিহার শহরে তৈরি হয় এক বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় আবেগ, উৎসাহ এবং অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দিনের এই বিশেষ কর্মসূচি।
