সত্য নিকেতনে পিজি ভবন ধসের পর কড়া পদক্ষেপ, দিল্লির ৫ পিজি হাবে সেফটি অডিট
সত্য নিকেতনে পিজি ভবন ধসে ৭ পড়ুয়ার মৃত্যুর পর দিল্লির মুখার্জি নগর, রাজিন্দর নগর, লক্ষ্মী নগর-সহ ৫ পিজি হাবে সেফটি অডিটের নির্দেশ।
সত্য নিকেতনে পিজি ভবন ধসের পর কড়া পদক্ষেপ দিল্লির – সব বড় পিজি হাবে সেফটি অডিট

সিটি নিউজ বাংলা, নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ২ : দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাস সংলগ্ন সত্য নিকেতন এলাকায় পাঁচতলা পিজি ভবন ধসে ৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি প্রশাসন। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পিজি হাবগুলিতে ব্যাপক নিরাপত্তা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আদালতের তরফেও বেআইনি নির্মাণ ও অনিরাপদ ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে কাঠামোগত নিরাপত্তা অডিট
সত্য নিকেতনের দুর্ঘটনার পর দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ পিজি এলাকাগুলিতে দ্রুত Structural Safety Audit শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখার্জি নগর, রাজিন্দর নগর, লক্ষ্মী নগর, সত্য নিকেতন এবং সাকেত—এই পাঁচটি বড় পিজি হাবকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এই এলাকাগুলিতে থাকা পিজি ভবনগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা, নির্মাণের বৈধতা এবং ভবনের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
দিল্লি হাইকোর্টেরও কড়া নির্দেশ
সত্য নিকেতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্টও। রাজধানীর পিজি হোস্টেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির সমস্ত পিজি হোস্টেল পরিদর্শনের জন্য MCD-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকাই নয়, দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পিজি ভবনগুলিও প্রশাসনের নজরদারির আওতায় আসছে। বিশেষ করে যেখানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া বা চাকরিপ্রার্থী থাকেন, সেই ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চার তলার বেশি বেআইনি নির্মাণে সিলিং অভিযান
বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নির্দেশে দিল্লিজুড়ে চার তলার বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে সেগুলিকে সিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই অভিযানের পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ৫ জন MCD কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথাও সামনে এসেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ভবনের অনুমোদন, নির্মাণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে এবার আর কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন নিয়েও চিন্তা
তবে বেআইনি ভবনের বিরুদ্ধে সিলিং অভিযান চালাতে গিয়ে যাতে হাজার হাজার পড়ুয়া আচমকা আবাসনহীন হয়ে না পড়েন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিশ সুদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে DDA এবং MCD-র খালি পড়ে থাকা ভবনগুলিকে শিক্ষার্থীদের বিকল্প আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন অনিরাপদ ও বেআইনি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অন্যদিকে পড়ুয়াদের থাকার সমস্যারও সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
মালিক ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা
সত্য নিকেতনের পাঁচতলা পিজি ভবন ধসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভবনের মালিক হরিরাম গুপ্তা, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং গ্রেফতারের কথা জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে বেসমেন্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে মেরামতের কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। সেই কাজের সঙ্গে ভবন ধসের যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে পিজি-নার্সিং হোম-স্কুলে নতুন নিরাপত্তা নীতি
সত্য নিকেতনের ঘটনা শুধু একটি ভবনের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি, বরং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য থাকা ভবনগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই পিজি, নার্সিং হোম, স্কুল-সহ এই ধরনের ভবনের জন্য বাধ্যতামূলক পর্যায়ক্রমিক নিরাপত্তা শংসাপত্র এবং নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ কোনও ভবন একবার অনুমোদন পেলেই দায়িত্ব শেষ নয়—নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানো হবে হোস্টেল সুবিধা
প্রশাসনের নজরে এখন আরও একটি বড় বিষয়—দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত আবাসনের ব্যবস্থা। পিজি ভবনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদে হোস্টেল সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সত্য নিকেতনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কার্যত দিল্লির পিজি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার পর রাজধানীর পিজি হাবগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হবে এবং অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাত পড়ুয়ার মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এখন মূল লক্ষ্য—দিল্লির পিজি আবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করা এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
