নারী কর্মীদের সরানোর অভিযোগে বন্ধ আইফেল টাওয়ার, BAPS সফর ঘিরে বিতর্ক
BAPS প্রতিনিধিদলের সফর ঘিরে নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার অভিযোগে উত্তাল প্যারিস। কর্মীদের ধর্মঘটে বন্ধ আইফেল টাওয়ার, ক্ষমা চাইল কর্তৃপক্ষ।
নারী কর্মীদের সরিয়ে BAPS প্রতিনিধিদলের সফর! বিতর্কের জেরে বন্ধ আইফেল টাওয়ার, ক্ষমা চাইল কর্তৃপক্ষ

সিটি নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৩ : বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্যারিসের আইফেল টাওয়ারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। হিন্দু আধ্যাত্মিক সংগঠন BAPS-এর একটি প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের কাজের জায়গা থেকে সরিয়ে রাখার অভিযোগ সামনে আসার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। প্রতিবাদে কর্মীদের ধর্মঘটের জেরে সোমবার সারাদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয় বিশ্বখ্যাত এই স্থাপত্যকে।
ঘটনার পর আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা Société d’Exploitation de la Tour Eiffel (SETE)-এর পক্ষ থেকে কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
🗼 কী ঘটেছিল আইফেল টাওয়ারে?
জানা গিয়েছে, গত শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, BAPS-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি দল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। সেই সফরকে কেন্দ্র করেই অভিযোগ ওঠে, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নারী কর্মীদের যোগাযোগ সীমিত রাখা অথবা তাঁদের সফরের নির্দিষ্ট অংশ থেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, নারী কর্মীদের পরিবর্তে কয়েকটি দায়িত্বে পুরুষ কর্মীদের রাখা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।
✊ প্রতিবাদে কর্মীদের ধর্মঘট
অভিযোগকে নারী-বিরোধী আচরণ হিসেবে দেখেন কর্মীদের একাংশ। এর প্রতিবাদে সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন।
কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে প্যারিসের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার সারা দিন বন্ধ রাখতে হয়। ফলে বহু পর্যটককে সেখানে গিয়ে ফিরে যেতে হয় এবং স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়।
🙏 ক্ষমা চাইল আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ
ঘটনাটি নিয়ে পরে অবস্থান স্পষ্ট করে আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা SETE। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এমন কোনও শর্ত মেনে নেওয়া ঠিক হয়নি।
ইউনিয়ন প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কাছে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
🕉️ BAPS-এরও দুঃখপ্রকাশ
অন্যদিকে BAPS-এর পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, তাদের জানা অনুযায়ী কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশ বা কাজ করতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে বা অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বিতর্কের জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
🇫🇷 রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া
আইফেল টাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থানে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্যারিসের মেয়র এবং ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা ঘটনাটির নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সমতা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও উঠেছে।
🔎 নিরাপত্তা ও সমতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক
ঘটনাটি ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, কোনও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের সফরের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সীমা কোথায় হওয়া উচিত। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা এবং কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর অনুরোধে কর্মীদের দায়িত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করা হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইফেল টাওয়ার শুধু ফ্রান্সের একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি দেশটির অন্যতম প্রতীক। ফলে সেখানে কর্মীদের সঙ্গে আচরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা যে কোনও বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।
✅ মঙ্গলবার থেকে ফের স্বাভাবিক আইফেল টাওয়ার
তীব্র বিতর্ক, কর্মীদের ধর্মঘট এবং কর্তৃপক্ষের ক্ষমাপ্রার্থনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে আইফেল টাওয়ারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত শেষ হচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
