ভারতের অর্থনীতিতে জোরালো গতি, ৭.৮% GDP বৃদ্ধির প্রশংসায় IMF
BRICS Summit 2026-এ দিল্লির যানজট কমাতে বড় উদ্যোগ। পৃথক VIP কনভয়ের বদলে সংসদ ভবন থেকে বাসে একসঙ্গে ভারত মণ্ডপমে যাবেন মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীরা।
ব্রিকস সম্মেলনে ভিআইপি কনভয় নয়, একসঙ্গে বাসে ভারত মণ্ডপমে যাবেন মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীরা
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ৯ : দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হবে এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যানজটের ভোগান্তি কমাতে এবার অভ্যন্তরীণ ভিআইপিদের যাতায়াত ব্যবস্থাতেও নেওয়া হয়েছে এক বড় সিদ্ধান্ত।

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিজেদের পৃথক ভিআইপি কনভয় নিয়ে ভারত মণ্ডপমে যাবেন না। পরিবর্তে তাঁদের এক জায়গায় জড়ো করে নির্দিষ্ট বাসে সম্মেলনস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংসদ ভবন থেকে একসঙ্গে বাসে ভারত মণ্ডপমে
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা প্রথমে সংসদ ভবনে এসে একত্রিত হবেন। এরপর সেখান থেকে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট বাসে একসঙ্গে রওনা দেবেন ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে।
সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে একাধিক গাড়ি, নিরাপত্তারক্ষী, পাইলট কার এবং অন্যান্য সহায়ক যানবাহন নিয়ে ভিআইপি কনভয় চলাচল করে। ফলে অল্প সময়ের জন্য হলেও দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ব্রিকস সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের কনভয়ের সংখ্যা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি থাকবে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় ভিআইপিদের জন্য পৃথক পৃথক কনভয় কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে।
কেন নেওয়া হল এমন সিদ্ধান্ত?
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন চলাকালীন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বাড়তে পারে। বিদেশি অতিথিদের বিমানবন্দর, হোটেল এবং সম্মেলনস্থলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার কারণে একাধিক রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আলাদা নিরাপত্তা কনভয় চললে রাস্তায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক কনভয়ের বদলে একটি বাসে একসঙ্গে যাতায়াতের ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর
ব্রিকস সম্মেলনে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকায় তাঁদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থা এবং দিল্লি ট্রাফিক পুলিশকে একযোগে কাজ করতে হবে।
দেশীয় ভিআইপিদের জন্য আলাদা আলাদা কনভয় কমানো গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের একটি বড় অংশ বিদেশি অতিথিদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সম্মেলনকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য
এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের যানজটের ভোগান্তি কমানো। দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় ভিআইপি কনভয় চলাচলের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ যানবাহনকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী, পড়ুয়া এবং অন্যান্য নিত্যযাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
একটি যৌথ বাসে মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলে পৃথক পৃথক কনভয়ের প্রয়োজন কমবে। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে বিশেষ প্রস্তুতি
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একাধিক স্তরে প্রস্তুতি চলছে। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তা, তাঁদের যাতায়াত, সম্মেলনস্থলের নিরাপত্তা এবং রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা—সবকিছুর ওপরই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পৃথক ভিআইপি কনভয়ের পরিবর্তে একসঙ্গে বাসে ভারত মণ্ডপমে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলন চলাকালীন বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা যেমন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে, তেমনই রাজধানীর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেও প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের যৌথ বাসে যাতায়াত সেই পরিকল্পনারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
