বারুইপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ধসে পড়ল দোতলা বাড়ির একাংশ
বারুইপুরে তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের ফাঁকা বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। দোতলা বাড়ির একাংশ ধসে পড়ে, ছিটকে যায় টিন ও দরজা-জানালা। গ্যাস সিলিন্ডার নাকি বোমা মজুত—তদন্তে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল।
বারুইপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! দোতলা বাড়ির একাংশ ধসে পড়ল

বারুইপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ধসে পড়ল দোতলা বাড়ির একাংশ
সিটি নিউজ বাংলা, বারুইপুর, স্টেট ডেস্ক ১৪ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় দু’টো নাগাদ বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগ লাল পোল এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দোতলা বাড়িটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাড়ির চাল, দরজা, জানালা এবং টিনের বিভিন্ন অংশ ছিটকে গিয়ে আশপাশের এলাকায় পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে মাঝরাতে বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন অসুস্থও হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি
স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তরভাগ লাল পোল এলাকায় তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের ওই বাড়িটি বেশ কিছুদিন ধরেই ফাঁকা ছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়িটির দোতলার একটি অংশ ভেঙে পড়ে। বাড়ির ছাদ ও বিভিন্ন অংশের টিন উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িতেও পড়ে বলে অভিযোগ। ফলে আশপাশের বাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ?
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এটিই বিস্ফোরণের একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার পরই ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
বোমা মজুতের অভিযোগ বিজেপির
অন্যদিকে, বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ওই ফাঁকা বাড়িতে বিপুল পরিমাণ বোমা মজুত রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, বাড়িতে বোমা বাঁধার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
তবে বিজেপির এই অভিযোগ এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার করা যায়নি। ফলে বিস্ফোরণের নেপথ্যে ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ
তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের তরফে উঠছে বোমা মজুতের গুরুতর অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সামনে আনতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা। বাড়িটিতে আগে কী ধরনের কার্যকলাপ চলত, সেখানে কোনও দাহ্য বা বিস্ফোরক পদার্থ রাখা হয়েছিল কি না এবং বিস্ফোরণের আগে সেখানে কেউ যাতায়াত করেছিল কি না—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ফরেন্সিক পরীক্ষার পরই মিলবে আসল উত্তর
ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিক দলের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে কী ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার সূত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বড় কোনও প্রাণহানির খবর না থাকলেও বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের আসল কারণ গ্যাস সিলিন্ডার নাকি অন্য কোনও বিস্ফোরক পদার্থ—তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের ভূমিকা সামনে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
