শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের ৮ দিনের CID হেফাজত
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। আদালতের নির্দেশে ৮ দিনের CID হেফাজত।
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের ৮ দিনের CID হেফাজত

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৭: শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে আট দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গ্রেফতারের পর শুক্রবার সকালে ভবানীভবন থেকে সিআইডির বিশেষ প্রতিনিধি দল সুমিত রায়কে মেদিনীপুরে নিয়ে যায়। শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
শালবনি জমি মামলায় কী অভিযোগ?
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি। তদন্তের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির নাম তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই তদন্তের সূত্রেই সুমিত রায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
এর আগে এই মামলার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেও সুমিত রায়কে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ফলে বিভিন্ন মামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসায় তাঁকে ঘিরে তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা কয়েক দফায় বেড়েছে।
আর্থিক লেনদেনের তদন্তেও নাম উঠে আসার দাবি
তদন্তকারীদের সূত্র উদ্ধৃত করে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্তেও সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে। ফলে শালবনি জমি মামলার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিত রায়ের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আর্থিক নথিপত্র নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ খারিজের পরই গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দেয় বলে জানানো হয়েছে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ আরও দ্রুত হয়।
অভিযোগ, রক্ষাকবচ খারিজের পর সিআইডির একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যায়। সেখান থেকেই সুমিত রায়কে শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয় বলে সূত্রের দাবি।
গ্রেফতারের পর তাঁকে ভবানীভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে সেখান থেকে বিশেষ সিআইডি দল তাঁকে মেদিনীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যায়।
বিধানসভায় গ্রেফতারির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী
সুমিত রায়ের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ বিধানসভাতেও উঠে আসে। আপনার দেওয়া সূত্র অনুযায়ী, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুমিত রায়ের গ্রেফতারির কথা জানান এবং তাঁকে নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যে সুমিত রায়কে ঘিরে একাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ খারিজ এবং এরপর সিআইডির গ্রেফতারের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে থাকা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়—মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার ফলাফলের উপরই অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ভর করবে।
আট দিনের হেফাজতে সিআইডি
আদালতের নির্দেশে আগামী আট দিন সিআইডির হেফাজতেই থাকবেন সুমিত রায়। এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শালবনি জমি মামলায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করবেন।
জমি সংক্রান্ত নথি, আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মামলার অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সুমিত রায়ের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির গ্রেফতারির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের অভিযোগ—দুই পক্ষের তরফেই পাল্টা বক্তব্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন সিআইডি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর শালবনি জমি মামলায় নতুন কী তথ্য সামনে আসে, তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে কি না এবং মামলায় আরও কারও নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
