নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে একা লড়ার চ্যালেঞ্জ মদন মিত্রের, নিশানায় শুভেন্দু
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা লড়ার চ্যালেঞ্জ মদন মিত্রের। শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে একা লড়ার চ্যালেঞ্জ মদন মিত্রের!

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৬ : নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ভোটের ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা লড়াই করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে নন্দীগ্রামের অতীত নির্বাচনী ফল, বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াই এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর রাজনৈতিক অভিযোগ। মদনের দাবি, নন্দীগ্রামের মাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে এবার আরও সরাসরি করে তুলতে হবে।
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা লড়তে দিতে হবে’
মদন মিত্র বলেন, বিজেপির নেতৃত্বে কোনও নির্দিষ্ট শিবির চলছে বলে যে আলোচনা রয়েছে, তার মধ্যে একটি ‘অসাধারণ সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা লড়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি কার্যত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ভোটও যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরে না যায়। যেখানে যে সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে, তা নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি।
মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে কি এবার তৃণমূল সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপির লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে?
নন্দীগ্রামের পুরনো লড়াই ফের আলোচনায়
নন্দীগ্রাম বরাবরই বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। অতীতের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ের ফলাফল নিয়ে আজও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত।
সেই প্রসঙ্গ টেনে মদন মিত্র প্রশ্ন তোলেন, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় কি সত্যিই স্বাভাবিক নির্বাচনী ফল ছিল, নাকি অন্য কোনও কারণ এর পিছনে ছিল?
শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা
বক্তব্যে নাম না ঘুরিয়ে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন মদন মিত্র। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচনী মেশিনে বিভ্রাট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার অভিযোগের প্রসঙ্গ।
তবে এই ধরনের অভিযোগের কোনও প্রমাণ তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেননি। রাজনৈতিক মহলে তাঁর মন্তব্যকে মূলত তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মদন মিত্রের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে এবার কোনও বিভাজন বা অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে না রেখে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে সামনে আনতে হবে।
উপনির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি—দুই শিবিরের কাছেই নন্দীগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। ফলে নির্বাচন ঘোষণার আগেই নেতাদের বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মদন মিত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘একা লড়তে দেওয়া’র ডাক এবং শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তাঁর বিস্ফোরক প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, উপনির্বাচনের ময়দানে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় এবং নন্দীগ্রামে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই কোন মাত্রা নেয়। মদন মিত্রের মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে বিজেপি শিবিরের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দিকেও।
