ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে মোদির ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি, একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক
ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি। কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে মোদির ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি, একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক

সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৪ : নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬-এর দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, সম্মেলনের মূল অধিবেশন ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পাশাপাশি একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সহযোগী দেশের প্রতিনিধিরাও। সম্মেলনের মূল আলোচনায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাচ্ছে।
একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির
রবিবারের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর দুপুর ৩টেয় ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও বুখারেস্ট বা বুরুন্ডি, নাইজেরিয়া এবং উগান্ডার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কাজাখস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগে জোর
কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে ভারত ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য বৃদ্ধি, খনিজ সম্পদ, জ্বালানি এবং পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে এই বৈঠককে আঞ্চলিক সহযোগিতার দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিলিপাইনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে এশীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তাও এই বৈঠক থেকে উঠে আসতে পারে।
মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গ্লোবাল সাউথ
মিশর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। ব্রিকসের মঞ্চে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রথম দিনেই গৃহীত ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গ্রহণ করেছে।
এই ঘোষণাকে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের বিভিন্ন বিষয়—একাধিক ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই ঘোষণার মাধ্যমে।
চীনের হাতে পরবর্তী সভাপতিত্বের দায়িত্ব
দুই দিনের সম্মেলনের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের পর্বও শেষ হবে। সম্মেলনের শেষে পরবর্তী ব্রিকস সভাপতি হিসেবে চীনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের।
ফলে এবারের সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ব্রিকসের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনটি ভারতের কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন ব্রিকসের বহুপাক্ষিক আলোচনায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
