অণ্ডালের সিঁধুলি কোলিয়ারিতে এয়ার ব্লাস্ট, খনিতে জল ঢুকে আতঙ্ক
অণ্ডালের সিঁধুলি কোলিয়ারিতে এয়ার ব্লাস্টের পর ধস ও খনিগর্ভে জল ঢুকে আতঙ্ক। জলের স্রোতে ভেসে যান দুই কর্মী, এলাকায় কম্পন ও মিথেন গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ।
অণ্ডালের সিঁধুলি কোলিয়ারিতে ভয়াবহ বিপত্তি, এয়ার ব্লাস্টের পর খনিতে জল ঢুকে আতঙ্ক

অণ্ডাল, পশ্চিম বর্ধমান, স্টেট ডেস্ক ৯ : সোমবার, ৫ অক্টোবর সকালে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালের ইসিএল (ECL)-এর সিঁধুলি কোলিয়ারির ২ নম্বর খনির জেকে ইউনিটে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। ভূগর্ভস্থ খনিতে আচমকা ‘এয়ার ব্লাস্ট’-এর জেরে ধস নামার পর উপরিভাগে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ জল হু হু করে নিচের সচল খনিগর্ভে ঢুকে পড়ে। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী একটি বন্ধ খোলামুখ খনিতে জমে থাকা জলও ফাটল দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খনিগর্ভে জল ঢোকার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন এক পাম্প অপারেটর এবং এক ওভারম্যান। জলের প্রবল স্রোতে তাঁরা প্রায় ৫০০ ফুট ভেসে যান বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা পাশের ৩ নম্বর খনি দিয়ে কোনওরকমে নিরাপদে উপরে উঠে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসা চলছে।
বিকট শব্দ, কম্পনে আতঙ্ক
জল খনিগর্ভে ঢোকার পর থেকেই আশপাশের এলাকায় একাধিকবার তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। মাঝিপাড়া ও বাউরিপাড়া-সহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে এবং ভূগর্ভ থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও বড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়িঘরে থাকা শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে শুরু করেছেন। আতঙ্কের কারণে বহু পরিবার কার্যত ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।
মিথেন গ্যাস ও ধোঁয়া বের হওয়ায় বাড়ছে আতঙ্ক
ঘটনার পর খনির বিভিন্ন ফাটল এবং ৩ নম্বর পিটের মুখ দিয়ে মিথেন গ্যাস ও ধোঁয়া বের হতে দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। আগুন বা কোনও ধরনের দাহ্য বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাঁরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ জল ঢুকে যাওয়া এবং মাটির নিচে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের ফলে যে কোনও সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। আতঙ্কিত মানুষজন কোলিয়ারি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা ঘটার পরও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর ECL
ঘটনার পর ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। খনিতে জল ঢোকার উৎস, ধসের কারণ এবং ভূগর্ভস্থ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিষয় হল খনিগর্ভে জল প্রবেশের পরিস্থিতি এবং সংলগ্ন বসতিগুলির নিরাপত্তা। প্রশাসন ও কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ঘটনার জেরে অণ্ডালের সিঁধুলি কোলিয়ারি ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
