পুরুলিয়ায় দেড় বছরের শিশুকে কুয়োয় ফেলে খু*নের অভিযোগ, গ্রেফতার দাদু ও প্রতিবেশী
পুরুলিয়ায় দেড় বছরের শিশুকে কুয়োয় ফেলে হত্যার অভিযোগ দাদুর বিরুদ্ধে। শিশুটির মায়ের অভিযোগে গ্রেফতার প্রতিবেশী যুবকও। তন্ত্রসাধনার যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শিউরে ওঠার মতো ঘটনা! দেড় বছরের শিশুকে কুয়োয় ফেলে খু*নের অভিযোগ

পুরুলিয়া: পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এমন নৃশংসতার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায়। ঘুমন্ত অবস্থায় দেড় বছরের এক শিশুকে কুয়োয় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই দাদুর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শিশুটির দাদুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এক প্রতিবেশী যুবককেও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তন্ত্রসাধনা বা অন্য কোনও গোপন আচার-অনুষ্ঠানের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাত্র দেড় বছরের একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে হল, কেনই বা তাকে নিশানা করা হল, এই ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক বিবাদ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে—এখন সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে শিশুটির ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটিকে যখন কুয়োয় ফেলা হয়, তখন সে জীবিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। কুয়োর জলে ডুবে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। সেই বয়সে কোনও শিশুর পক্ষে নিজে থেকে কুয়োর উঁচু বেড়া টপকে ভিতরে পড়ে যাওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ফলে ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এর পিছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
তদন্তে নেমে গ্রেফতার শিশুর দাদু
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শিশুটির মৃত্যুর পরিস্থিতি, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং আশপাশের এলাকার বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ কুকুরের সাহায্যও নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে সন্দেহের ভিত্তিতে শিশুটির দাদুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ কতটা এবং এই ঘটনার পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিশুটিকে কীভাবে কুয়োর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার আগে ও পরে কী কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদ্ধার করা। পাশাপাশি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তন্ত্রসাধনার যোগ রয়েছে কি? খতিয়ে দেখছে পুলিশ
এই ঘটনায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্ত এবং স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে সন্দেহ করা হচ্ছে, কোনও তান্ত্রিকের পরামর্শ কিংবা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়, তাই সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কোনও গোপন আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, অথবা তন্ত্রসাধনার বিষয়টি নিছক গুজব কিংবা অনুমান কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। এই পর্যায়ে তন্ত্রসাধনার যোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশি তদন্তে প্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।
প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ
শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে আরও এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে এক প্রতিবেশী যুবকেরও যোগ থাকতে পারে। পুরনো কোনও বিবাদ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনও ষড়যন্ত্রের কারণে ওই যুবক শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই প্রতিবেশী যুবককেও গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রকৃত যোগসূত্র জানার চেষ্টা চলছে। শিশুটির দাদু ও প্রতিবেশী যুবকের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁরা একসঙ্গে কোনও পরিকল্পনা করেছিলেন কি না এবং ঘটনার পিছনে অন্য কেউ রয়েছেন কি না, সেই সমস্ত দিকও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তের ফলাফল এবং আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ
দেড় বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। শিশুটিকে কে বা কারা কুয়োয় ফেলেছিল? ঘটনার পিছনে কি কোনও পারিবারিক বিবাদ কাজ করেছে? প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে শিশুটির পরিবার বা দাদুর কোনও পুরনো বিরোধ ছিল কি? তন্ত্রসাধনার অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করা জরুরি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য
একটি দেড় বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। যে বয়সে একটি শিশুর নিরাপত্তা ও যত্নের জন্য পরিবারের উপর নির্ভরশীল থাকার কথা, সেই বয়সেই তার মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
এখন সকলের নজর পুলিশি তদন্তের দিকে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষা। আপাতত পুরুলিয়ার এই ঘটনায় দাদু ও প্রতিবেশী যুবককে গ্রেফতারের পর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
