ইউরোপে দাবানলের তাণ্ডব অব্যাহত, ফ্রান্স-স্পেন-গ্রিসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইউরোপের একাধিক দেশে দাবানলের তাণ্ডব অব্যাহত। ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও ইংল্যান্ডে প্রাণহানি, বনাঞ্চল পুড়ে ছাই এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপে দাবানলের তাণ্ডব অব্যাহত, ফ্রান্স-স্পেন-গ্রিসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সিটি নিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, শুষ্ক বনাঞ্চল এবং প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপের একাধিক দেশে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। কোথাও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বহু এলাকায় এখনও জারি রয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

স্পেনে এখনও উদ্বেগের কারণ একাধিক দাবানল
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে সান হুয়ান জলাধার সংলগ্ন বড় দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমানোর ঘোষণা দিলেও জানান, দেশের অন্তত ১০টি বড় দাবানল এখনও উদ্বেগের কারণ। আগুনের জেরে প্রায় এক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে পুড়েছে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো শহরের কাছে দাবানলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার জন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ। পাশাপাশি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।
গ্রিসে প্রাণ হারালেন তিন দমকলকর্মী
গ্রিসে দাবানলের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ক্রিট দ্বীপে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পেলোপনিস অঞ্চলের আরেকটি দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন আরও এক দমকলকর্মী।
প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু গ্রাম থেকে শত শত বাসিন্দা ও পর্যটককে স্থলপথ ও নৌপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডেও দাবানলের প্রভাব
পূর্ব ইংল্যান্ডের ডানউইচ হিথ এলাকাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে প্রায় ২০০টি ক্যারাভান খালি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চলের কারণে এ বছরের দাবানলের মৌসুম অতীতের বহু রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
