প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কড়া আইন! রাজ্যসভায় পাস অ্যান্টি-পেপার লিক বিল
সরকারি ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে রাজ্যসভায় পাস হল অ্যান্টি-পেপার লিক বিল। নতুন আইনে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা জরিমানা এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কড়া আইন! রাজ্যসভায় পাস অ্যান্টি-পেপার লিক বিল
সিটি নিউজ বাংলা | নয়াদিল্লি:
দেশজুড়ে সরকারি ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে আরও কঠোর আইন কার্যকর করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে অ্যান্টি-পেপার লিক বিল। এর আগে বুধবার বিলটি লোকসভাতেও অনুমোদন পেয়েছিল।
নতুন আইনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতির বিরুদ্ধে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

প্রশ্নফাঁসে ১০ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান
নতুন আইনে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের জন্য ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্র বা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা
আইনে আর্থিক জরিমানার ক্ষেত্রেও বড়সড় কড়াকড়ি আনা হয়েছে। ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা
পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনো সংস্থা বা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৮ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। আগের আইনি কাঠামোর তুলনায় এই শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে।
দ্রুত তদন্ত ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার
প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন আইনে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি
কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারি ও পাবলিক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
