প্রাক্তন রাজ্যপাল ডি. ওয়াই. পাটিলের প্রয়াণ, শোকের ছায়া শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডি. ওয়াই. পাটিল ৯০ বছর বয়সে প্রয়াত। শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান জানুন বিস্তারিত।
প্রাক্তন রাজ্যপাল ডি. ওয়াই. পাটিলের প্রয়াণ, শোকস্তব্ধ শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহল
সিটি নিউজ বাংলা
ন্যাশনাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী এবং প্রবীণ রাজনীতিক ডি. ওয়াই. (ধ্যানদেও যশবন্তরাও) পাটিল আর নেই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর প্রয়াণে শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৩৫ সালের ২২ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে জন্মগ্রহণ করেন ডি. ওয়াই. পাটিল। শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াকে তিনি আজীবন নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডি. ওয়াই. পাটিল গ্রুপ-এর অধীনে ১৮২টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাতটি ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়, একাধিক আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় এবং আধুনিক মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর এই উদ্যোগ দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপকারে এসেছে।
শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য ছিলেন। পরবর্তীকালে বিহার, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে তিনি ২০১৪ সালের ৩ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্বে ছিলেন।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার ১৯৯১ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণে তাঁর অবদান আজও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহমান।
ডি. ওয়াই. পাটিলের প্রয়াণে দেশ হারাল একজন দূরদর্শী শিক্ষাবিদ, দক্ষ প্রশাসক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবীকে। তাঁর গড়ে তোলা শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আগামী দিনেও তাঁর কর্মদর্শনের সাক্ষ্য বহন করবে। শিক্ষা ও জনকল্যাণে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
