স্কুলে ‘রিডিং কর্নার’ বাধ্যতামূলক, ক্লাসে মোবাইল নিষিদ্ধ — বড় উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলে রিডিং কর্নার বাধ্যতামূলক। ক্লাস চলাকালীন মোবাইল ব্যবহারে কড়া নিয়ম, জানুন নতুন শিক্ষা নির্দেশিকার বিস্তারিত।
স্কুলে ‘রিডিং কর্নার’ বাধ্যতামূলক, ক্লাসে মোবাইল নিষিদ্ধ—পড়ুয়াদের বইমুখী করতে বড় উদ্যোগ রাজ্যের
সিটি নিউজ বাংলা, এডুকেশন ডেস্ক :
পড়ুয়াদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মোবাইল নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দফতর। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলে ‘রিডিং কর্নার’ বা ‘বুক কর্নার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ স্কুল চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে মোবাইল আনা কার্যত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে এমন একটি পাঠকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে যেখানে পড়ুয়ারা অবসরে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে পারবে। রিডিং কর্নারে গল্পের বই, শিশু সাহিত্য, অভিধান, মানচিত্র, বিশ্বকোষ, বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক বই এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের জ্ঞানচর্চা, কল্পনাশক্তি ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু বই রাখলেই হবে না, পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত রিডিং আওয়ার, গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, বই নিয়ে আলোচনা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেহেতু এই প্রকল্পের জন্য আলাদা সরকারি আর্থিক বরাদ্দ নেই, তাই স্কুলগুলিকে নিজস্ব তহবিল, শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বুক ডোনেশন ড্রাইভ-এর মাধ্যমে বই সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। প্রার্থনা সভা, ক্লাস চলাকালীন এবং পরীক্ষার সময় ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহার বা সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ থাকবে। তবে দূরপাল্লা থেকে যাতায়াত বা জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল আনতে হলে সেটি বন্ধ রাখতে হবে এবং প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিতে হবে।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল সুস্থতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুলগুলিকে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও কাউন্সেলিং শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মহলের মতে, বই পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
