এক রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন কোচবিহার শহর, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগ
টানা এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন কোচবিহার শহরের একাধিক এলাকা। সুনীতি রোড, কলাবাগান, ভবানীগঞ্জ বাজারে হাঁটুসমান জল। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার অভিযোগে ক্ষোভ বাসিন্দাদের।
এক রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন কোচবিহার শহর, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থায় দুর্ভোগে বাসিন্দারা
সিটি নিউজ বাংলা: এক রাতের টানা ভারী বর্ষণেই কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ল কোচবিহার শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। অপর্যাপ্ত ও বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির জল দ্রুত বের হতে না পারায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান জল জমে যায়। ফলে সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী মানুষ।

সবচেয়ে বেশি জল জমেছে সুনীতি রোড, কলাবাগান, ভবানীগঞ্জ বাজার-সহ শহরের একাধিক ব্যস্ত এলাকায়। কোথাও কোথাও দোকানের ভিতরেও জল ঢুকে পড়ে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলকভাবে কম। জল জমে যাওয়ায় ছোট গাড়ি, টোটো ও মোটরবাইক চলাচলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে জুতো হাতে নিয়ে জল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়া, জল নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং ড্রেনগুলির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতি বর্ষাতেই এমন জলজটের সমস্যা দেখা দেয়। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের জেরে তোর্সা নদীর জলস্তরও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন নদী সংলগ্ন এলাকাগুলির পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও এখনও বড় ধরনের বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবুও জলস্তর আরও বাড়লে নিচু এলাকাগুলিতে নতুন করে জল ঢোকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও বৃষ্টির জল বাড়ির উঠোন ও নিচতলায় ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারকে জল সরিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। স্কুল-কলেজগামী পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষদেরও চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, ভবিষ্যতে বর্ষার সময় যাতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আধুনিক ও কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এদিকে, আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
