ভারত-নেপাল মৈত্রী সাইকেল যাত্রা ১৬ সেপ্টেম্বর, জলদাপাড়া–কোচবিহারে বিশেষ উদ্যোগ
ভারত-নেপাল মৈত্রী ও সীমান্ত পর্যটনের বার্তা নিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর জলদাপাড়া–কোচবিহারে আয়োজিত হবে ভারত-নেপাল মৈত্রী সাইকেল যাত্রা।
ভারত-নেপাল মৈত্রীর বার্তা নিয়ে জলদাপাড়া–কোচবিহারে ‘মৈত্রী সাইকেল যাত্রা’, ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ কর্মসূচি
সিটি নিউজ বাংলা, উত্তরবঙ্গ ডেস্ক : ভারত ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সীমান্ত পর্যটনের প্রসারে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হতে চলেছে ‘ভারত-নেপাল মৈত্রী সাইকেল যাত্রা’। ‘২য় ইন্দো-নেপাল ট্যুরিজম মিট’-এর অংশ হিসেবে জলদাপাড়া ও কোচবিহারকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ সাইক্লিং কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে ভারত ও নেপালের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং পূর্ব নেপাল ও ডুয়ার্স অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও তুলে ধরাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কাকরভিট্টায় যৌথ বৈঠক
মৈত্রী সাইকেল যাত্রা নিয়ে নেপালের কাকরভিট্টা ট্যুরিজম অফিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে Tourism Forum Jhapa (TFJ) এবং Eastern Dooars Tourism Development Association (EDTDA)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি ভারত ও নেপালের বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যোগ দেন।
ভারতের কোচবিহার সাইকেল কমিউনিটি-র পক্ষ থেকে সাইকেল আরোহী সুমন্ত সাহা এবং নেপালের TFJ ঝাপা সাইক্লিং ক্লাব-এর পক্ষ থেকে সাইকেল আরোহী আকাশ শ্রেষ্ঠ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
দুই দেশের সাইক্লিং সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে বৈঠকে তাঁরা নিজেদের সংগঠনের লোগো পরস্পরের হাতে তুলে দেন।
সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
আয়োজকদের মতে, এই মৈত্রী সাইকেল যাত্রা শুধুমাত্র সাইক্লিংয়ের প্রসার ঘটাবে না, বরং ভারত ও নেপালের পর্যটনকেন্দ্রগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে যৌথ সাইক্লিং ট্যুর, মৈত্রী রাইড এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে ডুয়ার্স, জলদাপাড়া, কোচবিহার এবং পূর্ব নেপাল—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য, সংস্কৃতি এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে সাইকেলের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে আরও যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনা
EDTDA-এর সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিশ্বজিৎ সাহা জানান, ভারত ও নেপালের মধ্যে পর্যটন ও সাইক্লিংকে কেন্দ্র করে এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত পর্যটন, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ এবং সাইক্লিংকে কেন্দ্র করে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের আশা, এই মৈত্রী সাইকেল যাত্রা দুই দেশের পর্যটন ও সাইক্লিংপ্রেমীদের মধ্যে নতুন যোগাযোগের পথ খুলে দেবে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।
‘সীমান্ত নয়, সাইকেলের প্যাডেলে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের ভারত-নেপাল মৈত্রী সাইকেল যাত্রা-র প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।
