তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০২১-এর খালাস বাতিল বম্বে হাইকোর্টে
২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। ২০২১ সালের খালাসের রায় বাতিল, চার সপ্তাহে আত্মসমর্পণের নির্দেশ।
তরুণ তেজপালকে ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড, ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল হাইকোর্টে
সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : ২০১৩ সালের বহুলচর্চিত ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন মামলায় বড় আইনি মোড়। ‘তেহেলকা’ ম্যাগাজিনের প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। পাশাপাশি তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬ আগস্টের এই রায়ে ২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া খালাসের রায়ও বাতিল করেছে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যৌন নির্যাতনের শিকার একজন নারী কীভাবে ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট বা বাঁধাধরা ধরন নেই। আদালত ‘পারফেক্ট ভিক্টিম’ বা ‘নিখুঁত ভুক্তভোগী’-র ধারণাকে ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে। ট্রায়াল কোর্টের আগের রায়কে হাইকোর্ট ত্রুটিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে।
মামলায় নির্যাতিতার জবানবন্দিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঘটনার পর তরুণ তেজপালের পাঠানো ক্ষমা চাওয়ার ই-মেলগুলিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
কেন বাতিল হল ট্রায়াল কোর্টের রায়?
২০১৩ সালের মামলায় ২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার সেশন কোর্ট তরুণ তেজপালকে বেকসুর খালাস করেছিল। সেই রায়ে ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগকারীকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল।
এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা হয়। এরপর গোয়া সরকার ট্রায়াল কোর্টের খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আপিল করে। সেই আপিলের শুনানির পর নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেছে হাইকোর্ট।
৪ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
রায় ঘোষণার পর প্রথমে তরুণ তেজপালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে গোয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে চার সপ্তাহ করা হয়েছে।
রায়ের পর তেজপাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি গত ১৩ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গিয়েছে।
কী ঘটেছিল ২০১৩ সালে?
২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ায় ‘তেহেলকা’ আয়োজিত ‘থিংকফেস্ট’ চলাকালীন একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটে এক তরুণী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন তেহেলকা সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মামলায় ২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্ট তাঁকে খালাস করেছিল। এবার সেই রায় খারিজ করে হাইকোর্টের দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত মামলাটিকে ফের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
