সিতাইয়ে বিক্ষোভের মুখে সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি, গভীর রাতে বাড়ি ছাড়লেন জগদীশ-সঙ্গীতা
সিতাইয়ে বাড়ি ফেরার পর বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় কোচবিহার শহরে চলে যান তাঁরা।
সিটি নিউজ বাংলা, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক
সিতাইয়ে বিক্ষোভের মুখে সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি, গভীর রাতে বাড়ি ছাড়লেন জগদীশ ও সঙ্গীতা
কোচবিহারের সিতাইয়ে বাড়ি ফিরেও রাত কাটাতে পারলেন না সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও তাঁর স্ত্রী তথা সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। সোমবার রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁরা এলাকায় ফিরতেই তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বেশ কয়েক মাস সিতাইয়ের বাড়িতে দেখা যায়নি সাংসদ ও বিধায়ককে। সোমবার রাতে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিতাই বাজার এবং তাঁদের বাড়ির সামনে স্থানীয়দের একাংশ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। চবলে স্লোগানও।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সিতাইয়ে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেননি সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি। রাত প্রায় ২টো নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁরা সিতাই ছেড়ে কোচবিহার শহরের ফ্ল্যাটে চলে যান।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে NCPI-র NDA-তে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা চলার মধ্যেই একাধিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। অন্যদিকে, বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের তরফেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের কথা সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে কোচবিহারের সাংসদ হন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি NCPI-তে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সিতাই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।
তবে সিতাইয়ে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
