চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম সিল, ৩ সপ্তাহের অনুমতি অভিষেককে
চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের বিদেশযাত্রার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিদেশ যাওয়ার আগে পুলিশকে ভ্রমণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে।
চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম সিল, ৩ সপ্তাহের অনুমতি অভিষেককে
সিটি নিউজ বাংলা, নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক : চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দিয়েছে।
তবে বিদেশযাত্রার আগে একাধিক নিয়ম মেনে চলতে হবে অভিষেককে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাত্রার অন্তত দু’দিন আগে পুলিশকে তাঁর বিদেশ যাওয়ার যাবতীয় তথ্য জানাতে হবে। কোন বিমানে তিনি যাতায়াত করবেন, কবে দেশ ছাড়বেন, কবে ফিরবেন, বিদেশের কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে এবং কোথায় থাকবেন—এই সমস্ত তথ্য পুলিশকে দিতে হবে।

মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। রাজ্যের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার পর তিনি দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার আগে দেশেই তাঁর এমআরআই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয় রাজ্যের তরফে।
অন্যদিকে, অভিষেকের আইনজীবী এই আশঙ্কার বিরোধিতা করেন। আদালতে তিনি জানান, এর আগেও চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক একাধিকবার বিদেশে গিয়েছেন এবং প্রতিবারই চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি সাংসদ, দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তান কলকাতায় থাকেন—তাই তাঁর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী।
শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্তে তাঁর মক্কেল সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ যখনই তাঁকে ডেকেছে, তিনি হাজির হয়েছেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি আটকে রাখার কোনও কারণ নেই বলেই আদালতে সওয়াল করা হয়।
মামলার শুনানিতে আরও উঠে আসে, অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলায় ৫ মে-র পর এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তিন সপ্তাহের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে বিদেশযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রায় ১৬টি মামলা চলার কথা উল্লেখ করে আদালত জানতে চেয়েছিল, বিদেশে যাওয়ার পর তাঁকে হাজিরার নোটিস দেওয়া হলে পরিস্থিতি কী হবে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে স্বস্তি না পেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
সর্বোচ্চ আদালতের এদিনের নির্দেশের পর আপাতত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পথে বাধা কাটল তৃণমূল সাংসদের। তবে বিদেশযাত্রার আগে পুলিশকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত ভ্রমণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার শর্ত বহাল থাকছে।
