আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা, প্রভাবিত দেড় লক্ষ যাত্রী
আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ায় বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত। আট বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত, প্রভাবিত দেড় লক্ষেরও বেশি যাত্রী।
আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা, প্রভাবিত দেড় লক্ষেরও বেশি যাত্রী
জাকার্তা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১২: ফের অগ্ন্যুৎপাত ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে। সুন্দা প্রণালীর এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের মেঘ ছড়িয়ে পড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিষেবা। জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তাসহ মোট আটটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.৫ লক্ষ যাত্রী আটকে বা পরিষেবা বিঘ্নের কারণে প্রভাবিত হয়েছেন এবং অন্তত ৪৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে আগ্নেয় ছাইয়ের বিস্তারের কারণে। ছাইয়ের মেঘ বিমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইঞ্জিনে আগ্নেয় ছাই ঢুকে গেলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যাত্রী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক বিমানবন্দরে পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
আট বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সোকার্নো-হাত্তা ছাড়াও হালিম পেরদানাকুসুমা, রাদিন ইনতেন-২, হুসেইন সাস্ত্রানেগারা, বুদিয়ার্তো, পন্ডক কাবে, তাউফিক কিয়ামাস এবং আতুং বুংসু বিমানবন্দরের পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। মোট ৪৬৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক এবং ৪০৯টি অভ্যন্তরীণ পরিষেবা ছিল।
পরবর্তী পর্যায়ের হিসাবে সোকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরে বাতিল, বিলম্ব, ডাইভারশন-সহ মোট ৭৬৪টি নির্ধারিত ফ্লাইট মুভমেন্ট প্রভাবিত হওয়ার কথাও জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক রুটেও বড় প্রভাব
অগ্ন্যুৎপাতের জেরে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দোহা, সিডনি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন বিমান সংস্থা একাধিক উড়ান বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করেছে। যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে সর্বশেষ আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছাইয়ের মেঘ
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা BMKG জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ জাভার উপর প্রায় ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রার দিকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাতাসের গতিপথ অনুযায়ী ছাই আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার উদ্গিরণ এবং বিকট শব্দও শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির চারপাশে অন্তত ৩ কিলোমিটার এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য ও জনজীবনেও প্রভাব
আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালা এবং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় স্কুলের কার্যক্রম ও মাছ ধরার মতো কর্মকাণ্ডও বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কবে স্বাভাবিক হবে বিমান পরিষেবা?
আকাশে ছাইয়ের ঘনত্ব, বাতাসের গতিপথ এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের উপর নির্ভর করছে বিমান পরিষেবা পুরোপুরি কবে স্বাভাবিক হবে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিমান সংস্থাগুলিকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আপাতত ইন্দোনেশিয়ার বিমান যোগাযোগে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগ্নেয় ছাই দ্রুত সরে গেলে পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
