পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার মামলায় ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ককে CID-র তলব
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার অভিযোগের তদন্তে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসকে ৮ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে তলব করেছে CID।
পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার মামলায় ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ককে CID-র তলব
নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিংসা, বোমাবাজি এবং বিরোধী কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগের তদন্তে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসকে তলব করল পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টায় কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডির দফতরে হাজির হয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সিআইডির এই তলবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে ক্যানিং পশ্চিম-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়কার ঘটনাগুলির তদন্তের সূত্রেই বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
৮ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ
সিআইডির নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে হাজির হতে হবে পরেশ রাম দাসকে। সেখানে তদন্তকারী আধিকারিকরা পঞ্চায়েত নির্বাচন-পর্বের হিংসার ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইতে পারেন। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য বা নথিও চাওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীরা মূলত ওই সময়কার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলির সঙ্গে বিধায়কের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিআইডির তলব মানেই কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়—জিজ্ঞাসাবাদ তদন্ত প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
অন্য একটি অভিযোগ নিয়েও চর্চা
এরই মধ্যে বিধায়ককে ঘিরে আরও একটি অভিযোগের বিষয় সামনে এসেছে। সম্প্রতি প্রায় তিন বছর আগের একটি ঘটনার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই অভিযোগের তদন্ত নিয়েও প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিধায়কের
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অবশ্য অস্বীকার করেছেন পরেশ রাম দাস। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ফলে একদিকে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে হিংসার অভিযোগের তদন্তে সিআইডির তলব, অন্যদিকে সাম্প্রতিক ধর্ষণের অভিযোগ—দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন ৮ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে পরেশ রাম দাস হাজির হন কি না এবং সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির পরই অভিযোগগুলির প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।
