অসমে বাঁশের সাইকেল, পরিবেশবান্ধব সবুজ যানে নতুন উদ্যোগ
অসমে বাঁশ দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব সাইকেল। ২ অক্টোবর গুয়াহাটির ব্রহ্মপুত্র রিভারফ্রন্টে জনসমক্ষে প্রদর্শিত হবে এই নতুন সবুজ যান।
বাঁশের তৈরি সাইকেল, পরিবেশবান্ধব সবুজ যানে নতুন উদ্যোগ অসমে
সহজলভ্য বাঁশকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব সাইকেল, ২ অক্টোবর গুয়াহাটির ব্রহ্মপুত্র রিভারফ্রন্টে প্রদর্শনের প্রস্তুতি

সিটি নিউজ বাংলা, গুয়াহাটি: সাইকেল ভারতের সাধারণ মানুষের অন্যতম পরিচিত ও সহজলভ্য যাতায়াতের মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনও বহু পরিবারের দৈনন্দিন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা সাইকেল। এবার সেই পরিচিত সাইকেলেই পরিবেশবান্ধব নতুন ভাবনার সংযোজন করতে উদ্যোগী হয়েছে অসম।
অসমে সহজলভ্য বাঁশকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ধরনের বাঁশের সাইকেল। পরিবেশবান্ধব ও সবুজ যান হিসেবে এই সাইকেলকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর গুয়াহাটির ব্রহ্মপুত্র রিভারফ্রন্টে এই বাঁশের সাইকেল প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাঁশেই নতুন সম্ভাবনা
বাঁশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। অসমেও বিভিন্ন ধরনের বাঁশ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। শক্তপোক্ত ও সহজলভ্য এই প্রাকৃতিক উপাদানকে নতুন প্রযুক্তি ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করে পরিবেশবান্ধব যান তৈরির ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।
সাধারণত প্রচলিত সাইকেলের কাঠামো তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের ধাতু বা অন্যান্য শিল্পজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। তার পরিবর্তে বাঁশকে সাইকেলের কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দূষণ কমানোর পথে বিকল্প ভাবনা
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবহণ ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাইকেল নিজেই একটি স্বল্প-দূষণকারী যান। তার সঙ্গে স্থানীয় ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে বাঁশের ব্যবহার যুক্ত হলে পরিবেশবান্ধব পরিবহণের ধারণাটি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বিশেষ করে বাঁশের মতো স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন উপাদানকে ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্থায়িত্ব, খরচ এবং বাজারজাতকরণের ওপর।
কবে থেকে বাজারে পাওয়া যাবে?
বাঁশের সাইকেল জনসমক্ষে আসতে চললেও সাধারণ মানুষ কবে থেকে এটি দোকান বা বাজারের মাধ্যমে কিনতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
কোথায় এই সাইকেল তৈরি হবে, বছরে কতগুলি সাইকেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে কিংবা সাধারণ মানুষের কাছে কী দামে এটি পৌঁছবে, সেই বিষয়গুলিও এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনের পর এই উদ্যোগ কীভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
তবে পরিবহণের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিকল্প নিয়ে যে নতুন চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বাঁশের মতো প্রাকৃতিক সম্পদকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে যদি টেকসই, নিরাপদ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সাইকেল তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থায় এর ভূমিকা তৈরি হতে পারে।
প্রকৃতির উপাদান দিয়ে প্রকৃতির জন্যই তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। অসমের বাঁশের সাইকেল সেই সম্ভাবনার কতটা বাস্তব রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
তথ্যসূত্র: সংবাদ সংস্থা
