সাইবার প্রতারণায় বৃদ্ধের প্রায় পৌনে ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল বসিরহাট পুলিশ
সাইবার প্রতারণায় জমি বিক্রির প্রায় পৌনে ১০ লক্ষ টাকা হারিয়েছিলেন বৃদ্ধ আমিরুল ইসলাম। বসিরহাট পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল পুরো অর্থ, ফিরিয়ে দেওয়া হল বৃদ্ধের হাতে।
সাইবার প্রতারণায় বৃদ্ধের প্রায় পৌনে ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল বসিরহাট পুলিশ

বসিরহাট, স্টেট ডেস্ক ৫ : সাইবার প্রতারণার শিকার এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়ল বসিরহাট পুলিশ। জমি বিক্রি করে পাওয়া এবং হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত প্রায় পৌনে ১০ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের তৎপরতায় সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রতারণার শিকার ওই বৃদ্ধের নাম আমিরুল ইসলাম। বয়স ষাটের কোঠা পেরিয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা সঞ্চয় করে রেখেছিলেন। বিশেষ করে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ওই অর্থ তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আচমকাই সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সেই টাকা হারিয়ে ফেলেন তিনি।
টাকা হাতছাড়া হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবার। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ শুরু করে বসিরহাট পুলিশ। সাইবার প্রতারণার ঘটনায় টাকা কোন পথে স্থানান্তরিত হয়েছে, সেই তথ্য খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সূত্র ধরে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়।
পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয় প্রায় পৌনে ১০ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার পর স্বস্তি ফিরে আসে বৃদ্ধের পরিবারে। পুলিশের এই উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমিরুল ইসলাম।
গত শুক্রবার বসিরহাট টাউন হলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার হওয়া টাকা ওই বৃদ্ধের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের এই উদ্যোগে শুধু প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অর্থই ফিরে এল না, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তাও পৌঁছেছে।
বর্তমানে মোবাইল ফোন, ভুয়ো ফোনকল, লিঙ্ক এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে আসছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের টার্গেট করে প্রতারকরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
বসিরহাট পুলিশের এই অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় ফের একবার সামনে এল—সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার পর দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং অভিযোগ দায়ের করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো অভিযোগ জানানো গেলে প্রতারিত অর্থের লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ করে তা আটকে দেওয়ার বা উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অচেনা ব্যক্তির ফোনে ব্যক্তিগত বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়া, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং কোনও পরিস্থিতিতেই OTP, PIN বা গোপন ব্যাঙ্কিং তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বৃদ্ধ আমিরুল ইসলামের ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া বিপুল অর্থ ফিরে পাওয়ায় তাঁর পরিবারে এখন স্বস্তির পরিবেশ। একই সঙ্গে বসিরহাট পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠল।
