বেঙ্গালুরুর ২৬ বিলাসবহুল হোটেলে অভিযান, উদ্ধার পচা মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার
বেঙ্গালুরুর ২৬টি থ্রি-স্টার ও ফাইভ-স্টার হোটেলে খাদ্য দফতরের অভিযান। উদ্ধার পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ, ছত্রাকযুক্ত সবজি-সহ বিপুল খাদ্যসামগ্রী।
বেঙ্গালুরুর ২৬ বিলাসবহুল হোটেলে খাদ্য দফতরের অভিযান, উদ্ধার পচা মাংস-ছত্রাকযুক্ত সবজি
সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : বেঙ্গালুরুর নামী বিলাসবহুল হোটেলগুলির রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল। শুক্রবার, ৭ আগস্ট কর্ণাটকের খাদ্য সুরক্ষা ও ওষুধ প্রশাসন দফতর শহরের বিবিএমপি জোনের অধীন ২৬টি থ্রি-স্টার ও ফাইভ-স্টার হোটেলে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ এবং ছত্রাকযুক্ত সবজি-সহ বিপুল পরিমাণ মানহীন খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের মোট ৩০টি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। হোটেলগুলির রান্নাঘর, খাদ্য সংরক্ষণের জায়গা এবং খাবারের গুণমান খতিয়ে দেখা হয়। একাধিক হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
অভিযানে র্যাডিসন ব্লু (দ্য আত্রিয়া) থেকে মোট ১০৫ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ৫০ কেজি মুরগির মাংস, ২৫ কেজি খাসির মাংস, ২৩ কেজি মাছ এবং ৭ কেজি সবজি। পরে ওই সমস্ত খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, দ্য ললিত অশোক হোটেল থেকে ৭৬ কেজি মাংস, ৩২ লিটার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ এবং প্রায় ২০০ কেজি সবজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তাজ ইয়েশওয়ান্তপুর, সাংগ্রি-লা এবং ফোর সিজন্স-সহ আরও কয়েকটি হোটেল থেকে পচা ও নষ্ট মাংস উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে।
পরিদর্শনের সময় বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মও চিহ্নিত করেছেন আধিকারিকরা। রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণের জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সবজিতে ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের উপস্থিতি এবং নিরামিষ ও আমিষ খাবার যথাযথভাবে আলাদা করে না রাখার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের FSSAI লেবেলিং ও ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত নিয়ম না মানার বিষয়টিও ধরা পড়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং মানহীন খাদ্যসামগ্রী ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই অভিযানের পর বেঙ্গালুরুর নামী হোটেলগুলিতে খাদ্য সংরক্ষণ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
