ব্রিকসের বিশেষ নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, নজরে বাংলায় বিনিয়োগ
ব্রিকসের বিশেষ নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিনিয়োগ ও শিল্প সম্ভাবনায় নজর।
ব্রিকসের বিশেষ নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

সিটি নিউজ বাংলা | কলকাতা ২
নতুন দিল্লিতে আজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বসছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসর। ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে রাজধানীতে উপস্থিত হয়েছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। এই আবহেই সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে যোগ দিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম এমন একটি আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সেই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
🌏 নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন একাধিক বিশ্বনেতা
সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নেতার উপস্থিত থাকার কথা।
এই নৈশভোজে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির ফলে একই পরিসরে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য মহলেও এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক স্তরের এই সম্মেলনের আবহে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
💼 পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ টানাই বড় লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করা। শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে রাজ্যে নতুন লগ্নি আনার বিষয়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
দিল্লির কর্মসূচি শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মুম্বই যেতে পারেন বলেও খবর। সেখানে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৈঠক হলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ, নতুন প্রকল্প এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
🇮🇳 ব্রিকসের মঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব
ব্রিকস মূলত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। ফলে এই সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণ রাজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা বহন করছে।
বিশেষ করে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজ্যকে আরও সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই সফর কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
🤝 মোদী-পুতিন-শি-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি
এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের বিশেষ নৈশভোজে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে নজর কাড়তে চলেছে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনার কোনও সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলের।
📌 নজরে মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি
সব মিলিয়ে, আজকের ব্রিকস-সংশ্লিষ্ট বিশেষ নৈশভোজ শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও শিল্পনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দিল্লির কর্মসূচির পর মুম্বই সফর এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক হলে রাজ্যে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এখন নজর একটাই—ব্রিকসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন বিনিয়োগের দরজা কতটা খুলতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
