ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কেন্দ্রের সতর্কবার্তা, কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে CDSCO-র নির্দেশ
ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল CDSCO। NSAID ব্যবহারে কিডনির ঝুঁকি এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকে AMR-এর আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় সতর্কবার্তা কেন্দ্রের, কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে CDSCO-র নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, CT News Bangla, স্বাস্থ্য ডেস্ক:
ব্যথা হলেই নিজের মতো করে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেওয়া কিংবা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে এবার সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা CDSCO (Central Drugs Standard Control Organization)। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে CDSCO একটি সার্কুলার জারি করে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিষয়টি সামনে এনেছে।

বারবার ব্যথানাশক খাওয়ার আগে সতর্ক হোন
ব্যথা, ফোলা বা প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত NSAID শ্রেণির ব্যথানাশক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার করলে কিডনির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, শরীরে জল কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অথবা অন্য কোনও শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
CDSCO-র সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হল প্রয়োজন ছাড়া এই ধরনের ওষুধের ব্যবহার কমানো এবং ওষুধ ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া।
অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আরও বড় সতর্কতা
সর্দি-কাশি, জ্বর বা সাধারণ অসুস্থতা হলেই নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেছে CDSCO।
অন্য কারও প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া কিংবা আগের চিকিৎসায় বেঁচে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক পরে নিজের মতো করে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যেসব অসুস্থতার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই, সেখানে এগুলির ব্যবহার ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এর অন্যতম কারণ Antimicrobial Resistance বা AMR। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে জীবাণুর মধ্যে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ওষুধটি কম কার্যকর হতে পারে।
ওষুধের দোকানগুলিকেও নিয়ম মানার বার্তা
CDSCO-র নির্দেশিকায় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন এমন অ্যান্টিবায়োটিক এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিক্রি করার নিয়ম যথাযথভাবে পালন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ওষুধ বন্ধ নয়, প্রয়োজনের সময় সঠিক ব্যবহার
তবে CDSCO-র সতর্কবার্তার অর্থ ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হবে, এমন নয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যায়। মূল বিষয় হল নিজের ইচ্ছায় ওষুধ শুরু না করা, দীর্ঘদিন প্রয়োজনের বাইরে ওষুধ না খাওয়া এবং পুরনো প্রেসক্রিপশন দেখে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু না করা।
বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত চিকিৎসা-পদ্ধতি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সতর্কবার্তা?
CDSCO-র ২২ সেপ্টেম্বরের সার্কুলারের শিরোনামেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঙ্গে Chronic Kidney Disease-এর ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ব্যথা হলেই ওষুধ নয়, আগে কারণ জানা জরুরি। আর অ্যান্টিবায়োটিক হলেই নিজের সিদ্ধান্তে নয়, চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।
