হিরো হতে পোশাক লাগে না, লাগে মেরুদণ্ড! জমুইয়ে নাবালিকাকে হেনস্থায় সহপাঠীর সাহসের প্রশংসা
বিহারের জমুইয়ে নাবালিকা হেনস্থার ঘটনায় সহপাঠী কিশোরের পাশে থাকার চেষ্টা সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত ও গ্রেফতার শুরু করেছে।
হিরো হতে পোশাক লাগে না, লাগে মেরুদণ্ড! জমুইয়ে নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় সহপাঠীর সাহসের প্রশংসায় নেটিজেনরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, CT News Bangla, বিহার:
হিরো মানেই পর্দার কোনও চরিত্র নয়। কখনও কখনও একেবারে সাধারণ পোশাকে, সাধারণ জীবনের ভিড়েই এমন কিছু মানুষ সামনে এসে দাঁড়ান, যাঁদের কাজই তাঁদের অসাধারণ করে তোলে। বিহারের জমুইয়ে এক নাবালিকা ও তার সহপাঠীর উপর হামলা এবং হেনস্থার ঘটনায় এমনই এক কিশোরের ভূমিকা এখন সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়োচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। পুলিশ ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচিং থেকে ফেরার পথে দশম শ্রেণির এক ছাত্র ও এক ছাত্রীকে একদল যুবক আটকে দেয়। তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর ও হেনস্থা করা হয়। ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে।
ভয় পেয়েও পিছিয়ে যায়নি কিশোর
এই ঘটনার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে নাবালিকার সঙ্গে থাকা কিশোরটির সাহসী ভূমিকা। অভিযোগ, হামলাকারীদের সংখ্যা বেশি হলেও সে নিজের সহপাঠীকে একা ছেড়ে চলে যায়নি। বরং পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে এবং নিজেও হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছে।
এই কারণেই নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, সত্যিকারের সাহসের পরিচয় বয়সে নয়, পরিস্থিতির সামনে একজন মানুষ কীভাবে দাঁড়াচ্ছে, তার মধ্যে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রশংসামূলক লেখায় বলা হয়েছে, “হিরো হতে পোশাক লাগে না, লাগে মেরুদণ্ড।” লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, ওই কিশোর চাইলে ভয় পেয়ে সরে যেতে পারত, বলতে পারত বিষয়টি তার নয়। কিন্তু সে তা করেনি। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল অন্যায়ের মুহূর্তে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
‘হিরো’ হওয়ার জন্য নয়, মানবিকতার জায়গা থেকেই
নেটিজেনদের প্রশংসার মূল জায়গাটি এখানেই। কোনও পুরস্কার, ক্যামেরা বা পরিচিতির জন্য নয়, পরিস্থিতির মধ্যে একজন সহপাঠীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে ওই কিশোর।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রশংসামূলক বার্তায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “অন্যায় যখন আমার চোখের সামনে ঘটছে, তখন আমি কি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব?”
এই প্রশ্নের উত্তর ওই কিশোর তার কাজের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেই মনে করছেন বহু মানুষ।
সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়
এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিয়েছে, সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়। ভয় থাকা সত্ত্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সাহসের অন্যতম পরিচয়।
একজন দশম শ্রেণির ছাত্রের কাছ থেকে এমন ভূমিকা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাই তাকে ঘিরে প্রশংসার পাশাপাশি উঠছে একটি বড় সামাজিক বার্তাও: বিপদের সময় একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
তবে একই সঙ্গে মনে রাখা জরুরি, এই ঘটনার মূল বিষয় হল নাবালিকাকে হেনস্থা ও তার নিরাপত্তা। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়াও গুরুতর বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং নাবালিকার পরিচয় প্রকাশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন। আর সেই সঙ্গে, যে কিশোর ভয়কে অতিক্রম করে একজন অসহায় সহপাঠীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তার সাহসের প্রশংসা করাও মানবিকতারই অংশ।
হয়তো সে এখনও কিশোর। কিন্তু সেই মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, বয়স নয়, মানুষের আসল পরিচয় তৈরি হয় তার মেরুদণ্ডে।
তোমাকে স্যালুট।
