ভোররাতে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ৯ নবজাতকসহ ৫৮ রোগী উদ্ধার
ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের এশিয়ান হাসপাতালে ভোররাতে ভয়াবহ আগুন। ৯ নবজাতকসহ মোট ৫৮ রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোররাতে হাসপাতালেই ভয়াবহ আগুন! ৯ নবজাতকসহ ৫৮ রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার

ছত্রপতি শম্ভাজিনগর, ন্যাশনাল ডেস্ক ১৪ : শুক্রবার ভোররাতে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের এশিয়ান হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আচমকাই হাসপাতালের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায় হাসপাতাল চত্বর। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রোগী ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক।
তবে বিপদের মুহূর্তে দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন হাসপাতালের কর্মীরা। বিশেষ করে সদ্যোজাত শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের তৎপরতায় ৯টি নবজাতকসহ মোট ৫৮ জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোররাতে আগুন, হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে এশিয়ান হাসপাতালে আগুন লাগে। সেই সময় হাসপাতালে বহু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সদ্যোজাত শিশুও ছিল। আগুন ও ধোঁয়ার পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপদে বের করে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
আগুনের খবর পাওয়ার পর হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। একদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলতে থাকে, অন্যদিকে রোগীদের একে একে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিশেষভাবে উদ্ধার ৯ নবজাতক
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ড। আগুনের ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে সদ্যোজাত শিশুদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্মীদের তৎপরতায় ৯ জন নবজাতককে নিরাপদে বের করে আনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৫৮ জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
বড় বিপদ এড়াতে তৎপর হাসপাতাল কর্মীরা
হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু হয়। হাসপাতালের কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে রোগীদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ঘিরে তদন্ত
এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। কীভাবে হাসপাতালের ভিতরে আগুনের সূত্রপাত হল, কোথা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ল এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় অগ্নিকাণ্ড সবসময়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে একই ভবনে যখন শিশু, প্রবীণ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসাধীন থাকেন, তখন আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
এই ঘটনায় সময়মতো হাসপাতাল কর্মীদের তৎপরতার কারণে ৯ নবজাতকসহ ৫৮ জন রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল চত্বরে সাময়িকভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও উদ্ধারকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের এই অগ্নিকাণ্ড ফের একবার হাসপাতালগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং বিপদের সময় রোগী উদ্ধারের প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।
