বিমান নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ! বছরে একবার সব বাণিজ্যিক পাইলটের ডোপ টেস্টের ভাবনা
ফুকেত-দিল্লি বিমানে মাঝ আকাশে ৩০০ ফুট উচ্চতা কমার ঘটনার পর বছরে একবার সব বাণিজ্যিক পাইলটের ডোপ টেস্টের ভাবনা কেন্দ্রের। বিস্তারিত জানুন।
বিমান নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপের ভাবনা, এবার বছরে একবার সব বাণিজ্যিক পাইলটের ডোপ টেস্ট?
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিটি নিউজ বাংলা, নঢ়ানাল ডেস্ক ১১ : এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেত-দিল্লি বিমানে মাঝ আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র। দেশের সমস্ত বাণিজ্যিক পাইলটকে বছরে অন্তত একবার র্যান্ডম বা আকস্মিক ডোপ টেস্টের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিমান চালকদের মাদকাসক্তি বা নিষিদ্ধ মাদক সেবন সংক্রান্ত ঝুঁকি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়বে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও একটি বছরে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পাইলটের প্রায় ১০ শতাংশকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই নিয়ম আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দেশের সমস্ত কমার্শিয়াল পাইলটকে নিয়মিত ডোপ পরীক্ষার আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

ফুকেত-দিল্লি বিমানে কী ঘটেছিল?
গত ৪ আগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝ আকাশে আচমকাই উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিমানের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট নেমে যাওয়ায় যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর বিমানের পাইলটদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় বিমানটির পাইলট-ইন-কমান্ডের ডোপ টেস্টে গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সূত্রের দাবি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিমান নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়।
বর্তমান ১০ শতাংশের নিয়মে বদলের ভাবনা
বর্তমানে নির্দিষ্ট সংখ্যক পাইলটকে বেছে নিয়ে ডোপ টেস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার পর সেই পদ্ধতি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের ভাবনায় এবার বছরে অন্তত একবার দেশের ১০০ শতাংশ বাণিজ্যিক পাইলটের ডোপ টেস্ট করার প্রস্তাব রয়েছে।
https://youtu.be/uoBNzIHJLAA?si=Vib4-SmTWwH-vTfU
শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনকে নমুনা হিসেবে পরীক্ষা না করে সমস্ত পাইলটকে পরীক্ষার আওতায় আনা হলে মাদক সেবনের মতো গুরুতর বিষয়ের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা করেন, তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার নিজস্ব উদ্যোগ
ফুকেত-দিল্লি বিমানের ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও নিজেদের পাইলটদের নিয়ে পৃথকভাবে পদক্ষেপ করেছে। দুই সংস্থার মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ পাইলটের এককালীন স্ক্রিনিং বা ব্যাপক ডোপ পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর মাধ্যমে সংস্থাগুলি তাদের পাইলটদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি অপারেশনাল চাপও ভাবাচ্ছে DGCA-কে
তবে দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক পাইলটকে বছরে একবার ডোপ টেস্ট করানো হলে বিমান সংস্থাগুলির দৈনন্দিন পরিষেবায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাইলটদের বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র, সময় এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো প্রয়োজন হবে।
এই কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমান পরিষেবার স্বাভাবিক পরিচালন ব্যবস্থা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা DGCA।
আরও কড়া নজরদারির পথে বিমান পরিষেবা
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে পাইলটের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝ আকাশে কোনও ধরনের অসতর্কতা বা অক্ষমতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে ফুকেত-দিল্লি বিমানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাইলটদের ডোপ টেস্ট সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগকে বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন নজর রয়েছে, কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত বছরে একবার সমস্ত বাণিজ্যিক পাইলটের বাধ্যতামূলক র্যান্ডম ডোপ টেস্ট চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় কি না। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় পাইলটদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
