কোচবিহারে আট দফা দাবিতে জেলাশাসককে এপিডিআরের স্মারকলিপি, নতুন কাঁটাতার নিয়ে আপত্তি
সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া, কৃষিজমি, চলাচল ও মানবাধিকার-সহ আট দফা দাবিতে কোচবিহার জেলাশাসককে স্মারকলিপি দিল এপিডিআর।
নতুন কাঁটাতারের বেড়া থেকে মানবাধিকার—আট দফা দাবিতে জেলাশাসককে স্মারকলিপি

কোচবিহার: সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজমি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত একাধিক দাবি সামনে রেখে কোচবিহার জেলাশাসক দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করল এপিডিআর (Association for Protection of Democratic Rights)-এর তুফানগঞ্জ-কোচবিহার শাখা। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আট দফা দাবিকে সামনে রেখে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
এদিন এপিডিআরের প্রতিনিধিরা কোচবিহার জেলা জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে তাঁদের দাবিগুলি তুলে ধরেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁরা নিজেদের আপত্তি ও উদ্বেগের কথা জানান।
সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি, রাজ্য সরকার ও বিএসএফের উদ্যোগে সীমান্তে নতুন ফেন্সিং দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের জমি সংক্রান্ত অধিকার ও সম্মতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। এপিডিআরের অভিযোগ, নতুন করে সীমান্তে ফেন্সিং দেওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে বহু কৃষকের ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা কৃষিজমি কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজ এবং জমিতে যাতায়াত নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা।
এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের উপর বিএসএফের বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং তার ফলে নাগরিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, সীমান্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ এবং চলাচলের ক্ষেত্রে যাতে অযথা সমস্যার সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
এপিডিআরের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের তরফে গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারও যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবারের এই কর্মসূচিতে সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের আট দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে দেন। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এপিডিআরের বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জমি, জীবিকা, চলাচল এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেই দাবিতেই জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে সংগঠনটি।
এখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আট দফা দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের।
