কোচবিহারে ১৪ দফা দাবিতে PHE দপ্তরে স্মারকলিপি, ন্যূনতম ৪২ হাজার টাকা বেতনের দাবি
জরাজীর্ণ পাম্প হাউস সংস্কার, স্থায়ী কাজে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং ন্যূনতম ৪২ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে কোচবিহার PHE দপ্তরে ১৪ দফা দাবি জানাল CITU।
পাম্প হাউস সংস্কার থেকে ৪২ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন—১৪ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

কোচবিহার: জরাজীর্ণ পাম্প হাউসগুলির দ্রুত সংস্কার, স্থায়ী কাজের ক্ষেত্রে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং পানীয় জল সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৪২ হাজার টাকা করার দাবিতে সরব হল পি এইচ ই পাম্প অপারেটর শ্রমিক (CITU) কর্মচারী ইউনিয়নের কোচবিহার জেলা কমিটি। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি সামনে রেখে কোচবিহার PHE দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ১৪ দফা দাবিকে সামনে রেখে এদিন এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাম্প অপারেটর ও অন্যান্য কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং বেতন-সহ একাধিক বিষয় স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি হল, জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা পাম্প হাউসগুলির দ্রুত সংস্কার করা। তাঁদের বক্তব্য, পানীয় জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পাম্প হাউসগুলির পরিকাঠামো ঠিকঠাক না থাকলে কর্মীদের কাজ করতে যেমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তেমনই পরিষেবা ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত পরিকাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি স্থায়ী কাজে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের দাবিও সামনে এনেছে সংগঠন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং তাঁদের কাজের উপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
পাম্প অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর্থিক বিষয়টিও এদিনের স্মারকলিপিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংগঠনের দাবি, কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৪২ হাজার টাকা করা হোক। একইসঙ্গে কর্মীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
শুধু বেতন বা নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নয়, পানীয় জল সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে CITU-র কর্মচারী ইউনিয়ন। কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের সঙ্গে যাতে অযথা হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি না করা হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই দাবিগুলি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয়েছে এবং দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনও করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ফের ১৪ দফা দাবি সামনে রেখে PHE দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হল।
এদিন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, পানীয় জল সরবরাহের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে সচল রাখতে পাম্প অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের কর্মপরিবেশ, বেতন, নিয়োগ এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান এবং ১৪ দফা দাবি কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছে পি এইচ ই পাম্প অপারেটর শ্রমিক (CITU) কর্মচারী ইউনিয়নের কোচবিহার জেলা কমিটি। এখন তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে PHE দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।
