কোচবিহারে অগ্নিদগ্ধ বধূর মৃত্যু, আমিদুলের পর প্রাণ গেল মহিলারও
কোচবিহারে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে অগ্নিদগ্ধ মহিলার মৃত্যু। এর আগে মৃত্যু হয় আমিদুল হকের। তদন্তে পুলিশ।
কোচবিহারে অগ্নিদগ্ধ বধূর মৃত্যু, আমিদুলের পর প্রাণ গেল মহিলারও
কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১: পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আরও মর্মান্তিক পরিণতি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল অগ্নিদগ্ধ ওই মহিলার। এর আগে ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা আমিদুল হকেরও মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দু’জনের মৃত্যুতে ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তিনটি ছোট সন্তানকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

জানা গিয়েছে, কোচবিহারের একটি এলাকায় ওই মহিলার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বাড়িতে শুয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আমিদুল হক। ঘটনায় মহিলার শরীরের একাধিক অংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার সময় আমিদুলের শরীরেরও বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায় বলে জানা যায়। তাঁকেও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল ওই অগ্নিদগ্ধ মহিলারও।
দু’বছরের সম্পর্কের পর মর্মান্তিক পরিণতি
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দু’বছর আগে ওই মহিলা এবং আমিদুল হকের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে আমিদুল ওই মহিলার বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ওই মহিলার আগে বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর সন্তান রয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
বাড়িতে ঢুকে আগুন ধরানোর অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ওই মহিলা বাড়িতে শুয়ে ছিলেন। সেই সময় আমিদুল তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আমিদুল নিজেও নিজের শরীরে আগুন লাগান বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়।
আগুনের ঘটনায় দু’জনেই গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। দু’জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে পুলিশ
ঘটনার পর কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও বিরোধ হয়েছিল কি না এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকেও পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার নেপথ্যের সম্পূর্ণ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পরপর দু’টি মৃত্যুতে শোকের ছায়া
প্রথমে আমিদুল হক এবং পরে চিকিৎসাধীন মহিলার মৃত্যুতে ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক পরিণতি পেল। বিশেষ করে ওই মহিলার তিনটি ছোট সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে এমন প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হল, তা নিয়েই এলাকায় চর্চা চলছে। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
