নেতাজিকে ঘিরে কোচবিহারে দুই ছবি: অপমানের ক্ষত, শ্রদ্ধায় মূর্তি পরিষ্কার করে দেশপ্রেমীদের বার্তা
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোচবিহারে বিভিন্ন মনীষীর মূর্তি জল ও শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন শঙ্কর রায়, আস্থা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মীরা।
কোচবিহার, ১৪ আগস্ট: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোচবিহারে সামনে এল দেশপ্রেম ও শ্রদ্ধার এক অন্যরকম ছবি। একদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি নিয়ে বিতর্ক ও অবমাননার ঘটনা, অন্যদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শহরের বিভিন্ন মনীষীর মূর্তি পরিষ্কার করে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্যোগ। একই শহরের এই দুই চিত্রই নতুন করে সামনে আনল ইতিহাস ও দেশপ্রেমের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।


প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ আগস্টের আগে কোচবিহার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মনীষীর মূর্তি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন কোচবিহারের ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ হিসেবে পরিচিত শঙ্কর রায়। তাঁর উদ্যোগে ও আস্থা ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সহযোগিতায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মনীষীদের মূর্তি জল ও শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
পরিষ্কার করা হয় মহাত্মা গান্ধী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মূর্তি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর প্রতিটি মূর্তিতে মাল্যদান করা হয় এবং ধূপকাঠি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদ্যোক্তা ও উপস্থিতরা।
এই কর্মসূচির অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। নেতাজির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষক বিপ্লব তালুকদার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রক্তদাতা ও সমাজসেবী অভিজিৎ অধিকারী-সহ আস্থা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের স্মৃতি শুধু নির্দিষ্ট কোনও দিবসে স্মরণ করার বিষয় নয়; তাঁদের আদর্শকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের স্মৃতিচিহ্নগুলি সংরক্ষণ করাও নাগরিক দায়িত্ব।
স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই উদ্যোগ তাই শুধুমাত্র মূর্তি পরিষ্কারের কর্মসূচি নয়—ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেওয়ারও এক প্রতীকী প্রয়াস।
কোচবিহারে নেতাজিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে, একই শহরে দেশপ্রেমীদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে—ইতিহাসকে অপমান নয়, শ্রদ্ধা ও সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
